কাশি হলেই আর ওষুধ নয়! সিরাপ কেনার নিয়মে বড় বদল আনল কেন্দ্র, জারি কড়া নির্দেশিকা

সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওষুধের বিক্রয় নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র সরকার (Central Government)। এবার থেকে কাশির সিরাপ বা যেকোনো ধরণের সিরাপজাত ওষুধ কিনতে গেলে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু রাজ্যে বিষাক্ত কাশির সিরাপ পান করে শিশু মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পরই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।

কী পরিবর্তন এল নিয়মে?
১৯৪৫ সালের ‘ড্রাগস রুলস’-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে কেন্দ্র। এর আগে অনেক সিরাপ সাধারণ মানুষ সরাসরি ফার্মেসি থেকে কিনে নিতে পারতেন। কিন্তু নতুন বিধিতে সিরাপজাত ওষুধগুলোকে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছে। গত ৯ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব হর্ষ মঙ্গলার জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসি থেকে কোনো সিরাপই বিক্রি করা যাবে না।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিষাক্ত কাশির সিরাপ সেবনের ফলে শিশুমৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনাগুলোই সরকারকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে। এই ধরনের ওষুধের অপব্যবহার বা ভুল প্রয়োগ রোধ করতেই নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর এই সংশোধনী সংক্রান্ত খসড়া প্রকাশ করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের মতামত ও বিভিন্ন মহলের পরামর্শ পর্যালোচনার পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

ফার্মেসি ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব:
নতুন এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে দেশের প্রতিটি ওষুধের দোকান বা ফার্মেসিকে এখন অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া সিরাপ বিক্রি করলে দোকানদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ফলে, সামান্য কাশি বা ঠান্ডার সমস্যায় অভ্যাসবশত সরাসরি ওষুধ কিনে নেওয়ার দিন শেষ হলো। এখন থেকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সিরাপজাত ওষুধের বিক্রি ও ব্যবহারের ওপর নজরদারি বাড়বে, যা ভবিষ্যতে এ ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে বড় ভূমিকা পালন করবে।