বিধানসভায় সই জালিয়াতি! মুখোমুখি জেরা অভিষেক-কুণালকে, বয়ানে অমিল নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সই জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে নতুন মোড়। এই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের নেতা কুণাল ঘোষকে প্রায় ৮ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা করল সিআইডি (CID)। সূত্রের খবর, দুই নেতার বয়ানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ‘উল্লেখযোগ্য অমিল’ খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

কী নিয়ে বিতর্ক?
অভিযোগ, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সময় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম চূড়ান্ত করার জন্য ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সংবলিত যে নথি জমা দেওয়া হয়েছিল, তাতে বড়সড় কারচুপি রয়েছে। একাধিক স্বাক্ষর জাল বলে অভিযোগ ওঠার পরেই সিআইডি তদন্ত শুরু করে। এই নথি বা রেজলিউশন বুকের হদিস পেতেই মরিয়া গোয়েন্দারা।

জেরায় দুই নেতার বয়ানে ফারাক:
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভার সেই বিশেষ বৈঠকে রেজলিউশন পাশ হয়েছিল কি না, তা নিয়ে অভিষেক ও কুণালের বক্তব্যে অমিল পাওয়া গিয়েছে।

অভিষেকের দাবি: তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, বৈঠকে রেজলিউশন গৃহীত হয়েছিল।

কুণালের দাবি: ঠিক বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়ে কুণাল জানান, এমন কোনও রেজলিউশন পাশই হয়নি।

এছাড়া নথিটির বর্তমান অবস্থান এবং স্বাক্ষর করার সময়কাল নিয়েও দুই নেতার বয়ানে বিস্তর ফারাক রয়েছে। অভিষেক জানিয়েছেন, নথিটি শুধুমাত্র স্বাক্ষরের জন্য তাঁর কাছে আনা হয়েছিল, বাকি তথ্য অফিসের কর্মীরা বলতে পারবেন। অন্যদিকে, কুণাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই নথির সংরক্ষণ বা অবস্থানের বিষয়টি তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

তদন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ:
তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের কাছে তৃণমূলের পার্টি অফিস ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে, তবে এখনো মূল নথিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সোমবার সিআইডির একটি বিশেষ দল বিধানসভায় গিয়ে প্রধান সচিবের দফতর থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ড ও তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এদিকে, জেরার পর কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং কোনো বিতর্কিত কাজ করেননি। তবে সিআইডি এই দুই নেতার পরস্পরবিরোধী বয়ানকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। এই মামলা নিয়ে বিরোধীরা শাসকদলকে কোণঠাসা করার সুযোগ ছাড়ছে না, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে। এখন সিআইডির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়।