অমিত শাহ-রাজনাথের ম্যারাথন বৈঠক! বড় রদবদলের পথে বিজেপি? জানুন কী কী হতে চলেছে

নরেন্দ্র মোদী সরকারের তৃতীয় মেয়াদে সংগঠন এবং সরকারের মধ্যে সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ করতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাসভবনে এক ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। টানা চার ঘণ্টা ধরে চলা এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

বৈঠকের নেপথ্যে বড় পরিকল্পনা:
বিজেপি সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদী ১৮ই জুন বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর দল ও সরকারে যে বড় ধরনের রদবদল হতে পারে, এই বৈঠক ছিল তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। মূলত আসন্ন নির্বাচন এবং বর্তমান রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাই ছিল এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়:

সংগঠনে বড় রদবদল: কেন্দ্রীয় পদাধিকারীর সংখ্যা বর্তমান ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় কার্যনির্বাহী এবং জাতীয় পরিষদের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

মহিলাদের অংশগ্রহণ: সংগঠনে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক অভিভাবক: বিজেপির সংসদীয় বোর্ডের সদস্যদের মধ্য থেকে আট-নয়জন ‘আঞ্চলিক অভিভাবক কর্মকর্তা’ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এটি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অভিযোগ নিষ্পত্তি: দলের অন্দরে অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে নতুন রূপরেখা তৈরির প্রস্তুতি চলছে।

লক্ষ্য এবার পাঞ্জাব ও সীমান্তবর্তী রাজ্য:
পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী রাজ্য—পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, কেরালা এবং তামিলনাড়ুতে দলের প্রভাব আরও মজবুত করা বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। জানা গেছে, বাংলার পর এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মূল ফোকাস পাঞ্জাব। আসন্ন নির্বাচনগুলোতে কিভাবে দলের জয় নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত রণকৌশল তৈরি হয়েছে।

নিট বিতর্ক ও অন্যান্য বিষয়:
দেশজুড়ে চলমান নিট (NEET) পরীক্ষার বিতর্ক এবং পুনঃপরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর চাপের মুখে দাঁড়িয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার ও সংগঠন কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়েও শীর্ষ নেতারা মতবিনিময় করেছেন।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বিজেপি সভাপতির নতুন দল ঘোষণা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদলের যে জল্পনা চলছিল, এই বৈঠকের পর তা আরও জোরালো হলো। মোদী সরকারের এই নড়াচড়া আগামী দিনে ভারতীয় রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।