যুদ্ধ শেষ, স্বস্তি ফিরল বাজারে! ভারত-ইরান শান্তি চুক্তিতে কমবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম?

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা থামিয়ে অবশেষে শান্তির পথে আমেরিকা ও ইরান। দীর্ঘ ১০৭ দিনের চরম উত্তেজনার পর দুই দেশ শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক সই সম্পন্ন হবে আগামী ১৯ জুন জেনেভায়। এই চুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা ভারতের অর্থনীতির জন্য এক বড় স্বস্তির বার্তা।
জ্বালানির খরচ কমবে, স্বস্তি আমজনতার
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতে জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল পেট্রোল-ডিজেলের দামে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ, এলপিজি-র ৭০ শতাংশ এবং এলএনজি-র ৯০ শতাংশ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। ফলে হরমুজ প্রণালী খুলে গেলে আমদানির খরচ কমবে এবং দেশে মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টানা সহজ হবে।
বাণিজ্যিক সুবিধা ও অর্থনীতি
বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়ালের মতে, এই শান্তি চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অধিকাংশ বাধা দূর হবে। জিসিসি (GCC) দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ভারত ওই অঞ্চল থেকে তেল ও খনিজ জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি খাদ্যশস্য, ওষুধ, বস্ত্র এবং রত্ন-গয়না রফতানি করে। এই বাণিজ্যের পথ সুগম হওয়ায় ভারতের রফতানি বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।
বাজারে ইতিবাচক সাড়া
চুক্তির ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৩-৮৪ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। শেয়ার বাজারেও দেখা গেছে চাঙ্গা ভাব। ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রাও ০.৭ শতাংশ শক্তিশালী হয়ে ৯৫.১১-এর ঘরে পৌঁছেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতামত
GTRI-এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তবের মতে, জ্বালানি তেলের দাম কমলে দেশের আমদানি ব্যয়ের চাপ অনেকটাই কমবে, যা সরাসরি ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। যুদ্ধের মেঘ কেটে যাওয়ায় এখন গোটা বিশ্বের নজর ১৯ জুনের জেনেভা বৈঠকের দিকে। সব মিলিয়ে এই শান্তি চুক্তি ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।