‘একসঙ্গে দুই নৌকায় পা রাখা সম্ভব নয়!’ এনসিপিআই-বিতর্কে তৃণমূল বিদ্রোহীদের কড়া হুঁশিয়ারি মহেশ জেঠমালানির

তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এখন আইনি মোড় নিয়েছে। একদিকে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগদানের ঘোষণা, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রতীক ও পরিচয় ধরে রাখার দাবি—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিজেপি নেতা মহেশ জেঠমালানি।
আইনি সংঘাতের কেন্দ্রে কী?
এক সাক্ষাৎকারে মহেশ জেঠমালানি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো সাংসদ যদি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হন, তবে তিনি আর আগের দলের পরিচয় বা নির্বাচনী প্রতীকের ওপর আইনত দাবি জানাতে পারেন না। তাঁর কথায়, “একসঙ্গে দুই নৌকায় চড়া সম্ভব নয়।” জেঠমালানির মতে, সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) সুস্পষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন হতে পারে যদি বিদ্রোহীরা এই দ্বিচারিতা বজায় রাখেন।
বিদ্রোহীদের দাবি ও বাস্তবতা:
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়েননি, বরং দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের মতে, তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’ এবং লোকসভায় এই স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর তৃণমূলের প্রতীক দাবি করা আইনত অত্যন্ত দুর্বল একটি অবস্থান।
আগামী দিনে কী হতে পারে?
আইনি লড়াই: দলত্যাগ বিরোধী আইন ও প্রতীক বিতর্ক নিয়ে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে পারে।
স্পিকারের সিদ্ধান্ত: বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ এবং লোকসভায় তাঁদের স্বীকৃতির বিষয়টি এখন পুরোপুরি লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: এই বিদ্রোহকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসকদল। প্রয়োজনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
তৃণমূলের অন্দরের এই সংঘাত এখন কেবল রাজ্য রাজনীতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, এটি জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিদ্রোহী সাংসদদের এই আইনি লড়াই কি শেষ পর্যন্ত তাঁদের দলের প্রতীক বাঁচাতে পারবে, নাকি দলত্যাগ বিরোধী আইনের খাঁড়ায় তাঁদের সাংসদ পদই প্রশ্নের মুখে পড়বে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।