‘না শোধরালে উল্টে টাঙানো হবে!’ হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের, নিশানা তৃণমূলের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ নেতাদের

ফের একবার নিজের চিরচেনা মেজাজে ফিরলেন দিলীপ ঘোষ। মেছুয়া বাজারের প্রাতঃভ্রমণ ও চা-চক্রে যোগ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তিনি। এদিন তাঁর গলায় ছিল হুঙ্কার, “যারা শুধরাবে না, তাদের উল্টে টাঙানো হবে।”

দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো:

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও জেলযাত্রা: ইডি-সিআইডির তলব প্রসঙ্গে দিলীপবাবু বলেন, “সবাই হাঁটতে শুরু করেছে, কেউ আগে পৌঁছবে, কেউ পরে। পথ খোলাই আছে। এতদিন ভয়ে কেউ অভিযোগ করত না, এখন করছে। তথ্য অনুযায়ী পুলিশ নিজের কাজ করবে।”

কুণাল ঘোষের দিকে ডিম নিক্ষেপ: কুণাল ঘোষের দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনাকে বিদ্রূপ করে তিনি বলেন, “এত নিখুঁত নিশানায় ডিম মারছে যে মনে হয় কেউ প্র্যাকটিস করাচ্ছে। কুণালবাবু কাঁচা ডিম খাবেন ভাবেননি। আরও অনেকে তো হুমকি দিচ্ছেন, তাদের ভাগ্যে কী জোটে সেটাই দেখার!”

ওয়ার্ড অফিস ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে তিনি বলেন, “পার্টি অফিস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—সবই মধুচক্রের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সরকারি জেটিঘাটে তোলাবাজি আর ফুর্তির জায়গা তৈরি হয়েছিল, যা শাহজাহানের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “দুষ্কৃতিরা এমএলএ-এমপিদের পাশে ঘুরত, তারাই ফুর্তি করত, মেয়েদের ভোগ করত। এদের ফাঁসি হওয়া উচিত।”

অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি: ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা নিয়ে তোপ দেগে দিলীপ ঘোষ বলেন, “দোকানপাট বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে চোষা হয়েছে। এরকম আরও অনেক নেতা বেরোবে। সব সমাজবিরোধী নেতাদের জেলে পোরার সময় এসে গেছে।”

জাহাঙ্গীর খান ও হুঁশিয়ারি: ফলতার বিতর্কিত নেতা জাহাঙ্গীর খানের সমর্থনে মহিলাদের রাস্তায় নামার ঘটনা নিয়ে দিলীপের কড়া বার্তা— “যে চোরদের সঙ্গে আন্দোলন করবে, তাদেরও চোর-ডাকাত হিসেবেই দেখা হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না, সব খুঁজে খুঁজে বাংলাদেশে পাঠাব।”

অরূপ বিশ্বাস ও দুর্নীতি: পার্থ চট্টোপাধ্যায় বা কেষ্ট মণ্ডলের উদাহরণ টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বা রক্ষাকবচ নিয়ে শেষ রক্ষা হয়নি। দুর্নীতিতে যুক্ত সবাইকে আজীবন ‘জেলের ভাত’ খেতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সোনার বাংলা গড়ার ডাক:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব দলকে ডাকার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে দিলীপবাবুর মন্তব্য, “ঠেলায় পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে! প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’, এখন বিরোধীরাও সেটা মানতে বাধ্য হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো শুভেন্দু অধিকারীর ওপর ভরসা রাখছে, তাই রাজ্যের উন্নয়নের জন্য সবাই একজোট হচ্ছে।”

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যগুলি বর্তমান রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি যে আরও বাড়িয়ে তুলল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, শাসকদল এই আক্রমণগুলোর কী পাল্টা জবাব দেয়।