প্রেসার কুকার থেকে জল উপচে পড়ার সমস্যায় অতিষ্ঠ? এই ৫ ম্যাজিক্যাল টোটকায় রান্না হবে ঝঞ্ঝাটহীন!

বাঙালি মানেই দুপুরের পাতে এক বাটি ডাল। আর ডাল সেদ্ধ করতে গেলেই প্রেসার কুকারের সিটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেনা বেরিয়ে রান্নাঘরের দফারফা! এই সমস্যার মুখোমুখি হননি এমন গৃহিণী বা রাঁধুনি মেলা ভার। ডালের স্টার্চ ও প্রোটিন গরম জলের সঙ্গে মিশে যে ফেনা তৈরি করে, তা কুকারের ভেন্ট পাইপ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। এর ফলে একদিকে যেমন রান্নাঘর নোংরা হয়, তেমনই গ্যাসের বার্নারে আঠালো জল ঢুকে বড়সড় বিপত্তি ঘটতে পারে। তবে দুশ্চিন্তার দিন শেষ! আপনার রান্নাকে আনন্দদায়ক ও ঝকঝকে করতে রইল কিছু সহজ ও কার্যকরী কৌশল:

১. ম্যাজিকাল ‘বাটি থিওরি’: ডাল সেদ্ধ করার সময় কুকারের ভেতর ডালের ওপর একটি ছোট স্টিলের বাটি বসিয়ে দিন। এই বাটিটি ‘স্পেস ডিভাইডার’ হিসেবে কাজ করে। এটি বুদবুদগুলোকে মাঝপথেই ভেঙে দেয়, ফলে ফেনা আর কুকারের ভেন্ট পাইপ দিয়ে বাইরে বেরোতে পারে না।

২. তেল বা ঘিয়ের ম্যাজিক: ডাল বা রাজমা সেদ্ধ করার সময় কুকারের জলে সামান্য এক চামচ তেল কিংবা ঘি মিশিয়ে দিন। তেল বা ঘিয়ের উপস্থিতি ডালের প্রোটিন ও স্টার্চের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া ফেনাকে নিমেষে ভেঙে দেয়। ফলে বড় বুদবুদ তৈরি হতে পারে না।

৩. ভিজিয়ে রাখার অভ্যাস: রান্নার অন্তত ৩০ মিনিট আগে ডাল ভালো করে ধুয়ে জলে ভিজিয়ে রাখুন। ডাল জল শোষণ করে আগেভাগেই নরম হয়ে যায়, ফলে ওভেনে বসানোর পর খুব দ্রুত সেদ্ধ হয়। এতে স্টার্চের ফেনা তৈরি হওয়ার সুযোগই থাকে না।

৪. জলের পরিমাপ: অনেকেই কুকারের কানায় কানায় জল ভরে দেন, যা ভুল। সব সময় খেয়াল রাখবেন, ডাল ও জল মিলিয়ে কুকারের মোট আয়তনের যেন অর্ধেকের বেশি ভর্তি না হয়। অতিরিক্ত জায়গা না থাকলে বাষ্প বেরোনোর সময় ফেনা উপচে আসা স্বাভাবিক।

৫. ফ্লেমের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা: প্রথম সিটি পড়ার পরেই গ্যাসের আঁচ একদম কমিয়ে দিন। হাই ফ্লেমে রান্না করলে কুকারের ভেতর বাষ্পের চাপ দ্রুত বাড়ে। এছাড়া, হুইসেল বা প্রেশার ভালভ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।

৬. টিস্যু পেপারের কৌশল: বাড়তি সতর্কতার জন্য একটি ভেজা টিস্যু পেপার কুকারের হুইসেলের চারপাশের গোল অংশে জড়িয়ে রাখতে পারেন। যদি সামান্য জল বেরোতেও হয়, তবে সেই টিস্যু পেপার তা শুষে নেবে এবং আপনার মডিউলার কিচেন থাকবে একেবারে দাগহীন।

আজ থেকেই আপনার রান্নায় এই ছোট ছোট স্মার্ট কৌশলগুলো কাজে লাগান। এগুলো যেমন আপনার মূল্যবান সময় বাঁচাবে, তেমনই রান্নাঘরের খাটনি কমাবে অনেকটা। প্রতিদিনের রান্নাবান্না হয়ে উঠবে ঝঞ্ঝাটহীন ও আনন্দময়!