শান্তিপূর্ণ মহররম নিশ্চিত করতে ড্রোন নজরদারি! প্রয়াগরাজে কঠোর নিরাপত্তার বলয় তৈরি প্রশাসনের

মহররম উৎসবকে সামনে রেখে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছে পুলিশ প্রশাসন। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে যোগী সরকারের নির্দেশ মেনে প্রয়াগরাজ পুলিশ এবার একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবার নজরদারির ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

যা যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে: প্রয়াগরাজ পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এবার মহররমের মিছিলে কয়েকটি বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে:

  • নতুন পথ ও প্রথা: কোনো নতুন পথ বা নতুন কোনো প্রথার অনুমতি দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র ঐতিহ্যবাহী ও পূর্বনির্ধারিত পথেই মিছিল সম্পন্ন করতে হবে।

  • ডিজে ও আতশবাজি: মিছিলের সময় উচ্চস্বরের ডিজে সঙ্গীত বাজানো এবং আতশবাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শব্দদূষণ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • অস্ত্র প্রদর্শন: মিছিল চলাকালীন যেকোনো ধরনের নিষিদ্ধ অস্ত্র প্রদর্শন আইনত দণ্ডনীয় বলে গণ্য হবে।

ড্রোন নজরদারিতে বিশেষ এলাকা: নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খুলদাবাদ, রোশনবাগ, আটলা, কারেলি এবং চকের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ, পিএসি (PAC) এবং আরএএফ (RAF) বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শহর জুড়ে ফ্ল্যাগ মার্চ চলছে। এছাড়া ড্রোন ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ২৪/৭ নজরদারি চালানো হবে। প্রতিটি মিছিল ভিডিও রেকর্ড করা হবে বলে জানা গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজর: শুধু বাস্তব ক্ষেত্রেই নয়, সাইবার জগতেও সক্রিয় পুলিশ। মহররমকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় যাতে কোনো গুজব বা উস্কানিমূলক পোস্ট ছড়াতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখছে সাইবার সেল। উস্কানিমূলক পোস্টদাতা বা গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।

প্রয়াগরাজ পুলিশ জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চলা এই উৎসবে বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও নিকাশি ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির সাথেও নিয়মিত বৈঠক করা হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য—শান্তিপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বের আবহে মহররম উদযাপন সুনিশ্চিত করা।