ফুটবলের সুপারস্টার হওয়ার নেপথ্যে ৯ ঘণ্টার লড়াই! সালাহর জীবনের কঠিনতম সংগ্রামের কাহিনী জানেন?

বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে আজ সবার চোখ মিশরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ওপর। আজ ফুটবল বিশ্বের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি, লিভারপুলের নায়ক এবং মিশরীয় ফুটবলের অবিসংবাদিত মুখ। কিন্তু আজকের এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো মোটেও সহজ ছিল না। সাফল্যের এই পথটি তৈরি হয়েছে অগণিত ঘাম, চোখের জল আর দৈনিক ৯ ঘণ্টার দীর্ঘ এক ক্লান্তিকর সফরের বিনিময়ে।
১৪ বছর বয়সে শুরু হয় লড়াই
সালাহর বয়স যখন মাত্র ১৪, তখন ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নের পথে প্রতিদিন তাকে পাড়ি দিতে হতো দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার পথ। সেই কিশোর বয়সে অনুশীলনের জন্য তাকে প্রতিদিন কম-বেশি ১০টি বাস পরিবর্তন করতে হতো। সকাল ৭টায় স্কুল এবং তারপর ফুটবল প্র্যাকটিস—এই কঠোর রুটিন টানা চার বছর ধরে মেনে চলেছেন তিনি।
একটি সাক্ষাৎকারে উঠে এল সংগ্রামের সেই দিনলিপি
২০১৭ সালের এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই ভয়াবহ রুটিন নিয়ে মুখ খুলেছিলেন সালাহ। তিনি জানান, প্রথমে গ্রাম থেকে কিছুটা দূরের একটি ক্লাবে খেলতেন। এরপর সুযোগ মেলে তানতা ক্লাবে, যা ছিল বাড়ি থেকে দেড় ঘণ্টার দূরত্বে। সবশেষে যোগ দেন কায়রোর ‘আরব কন্ট্রাক্টরস’ ক্লাবে, যা তার বাড়ি থেকে ছিল প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার পথ।
সালাহর রুটিন ছিল এমনই:
সকাল ৭টা: স্কুলে উপস্থিতি।
সকাল ৯টা: স্কুল থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে অনুশীলনের উদ্দেশ্যে যাত্রা।
দুপুর আড়াইটা: অনুশীলন মাঠে পৌঁছানো।
বিকেল ৩:৩০ – ৬টা: কঠোর ফুটবল প্রশিক্ষণ।
রাত ১০:৩০: বাড়িতে ফেরা।
এরপর খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়া এবং পরদিন আবারও একইভাবে শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করা—এই ছিল তাঁর জীবনের দীর্ঘ চার বছরের গল্প। সালাহর মতে, এই কঠিন সংগ্রামই তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে আজকের এই সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে মিশরের কান্ডারি
মিশরের জার্সি গায়ে ১১৩টি ম্যাচ খেলা মোহাম্মদ সালাহ এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের অধিনায়ক। দলের সমস্ত আশা-ভরসা এখন তাঁর পায়ের ওপরই। প্রথম ম্যাচে বেলজিয়াম, এরপর নিউজিল্যান্ড এবং ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে মিশর। সালাহর সেই ছোটবেলার ১০ বাসে চড়ার জেদই কি আজ মিশরের ভাগ্য বদলে দেবে? ফুটবল প্রেমীরা এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায়।
সালাহর এই অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী ফুটবল বিশ্বে নতুনদের জন্য এক বিশাল পাথেয়। বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি আপডেটের জন্য আমাদের খবরের সাথেই থাকুন।