নিয়োগ দুর্নীতির ১০০ কোটির ‘ভাগাভাগি’ ছক, সিবিআই চার্জশিটের তথ্য ঘিরে তলব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নজিরবিহীন মোড়। এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ‘কালীঘাটের কাকু’ খ্যাত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য ও সিবিআইয়ের চার্জশিটকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআইয়ের চার্জশিটে ১০০ কোটি টাকা দুর্নীতির যে ছক ও বণ্টনের হিসেব উঠে এসেছে, তাতেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নজর এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে।
চার্জশিটের বিস্ফোরক তথ্য: ১০০ কোটির হিসেব
সিবিআই সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের বাড়িতে হওয়া একটি গোপন বৈঠকের বিবরণ চার্জশিটে উঠে এসেছে। সেই বৈঠকে কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। চার্জশিটের দাবি অনুযায়ী, সুজয়কৃষ্ণ ওই বৈঠকে চাকরি বিক্রির মাধ্যমে বাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন।
বণ্টনের সেই পরিকল্পনা ছিল নিম্নরূপ:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: ২০ কোটি টাকা।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়: ২০ কোটি টাকা।
মানিক ভট্টাচার্য: ২০ কোটি টাকা।
বাকি ৪০ কোটি: সুজয়কৃষ্ণ ও অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে ভাগ হওয়ার কথা ছিল।
কেন এই পরিকল্পনা?
সিবিআই-এর চার্জশিট অনুযায়ী, ওই বৈঠকে সুজয়কৃষ্ণ একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক নিয়োগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় মোটা টাকা নিচ্ছেন বলে খবর পৌঁছায় অভিষেকের কাছে। এই টাকা থেকে নিজের প্রাপ্য অংশ না পাওয়ার কারণে অভিষেক অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি, প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীকে গ্রেফতারির হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে। সুজয়কৃষ্ণ জানান, এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই তিনি ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহের টার্গেট ও ভাগের পরিকল্পনা করেন।
তদন্তের নিশানায় অভিষেক
আজ সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা কেন এবং কোন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা নিয়েই এখন জেরা চলছে। সিবিআই-এর চার্জশিটে উঠে আসা এই বিস্ফোরক দাবিগুলো নিয়ে অভিষেক কী ব্যাখ্যা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিজেপির চক্রান্ত বলে দাবি করা হলেও, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের চার্জশিটে উল্লিখিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করল।