‘কাঠির মতো রোগা’, কেরিয়ারের শুরুতে শুনতে হতো কুরুচিকর কথা! বডি শেমিং নিয়ে বিস্ফোরক মাধুরী

নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পাওয়া ছবি ‘মা বহেন’-এর হাত ধরে ফের চর্চায় মাধুরী দীক্ষিত। কমেডি ঘরানার মোড়কে এই ছবিটিতে নারীর প্রতি সমাজের নীতিপুলিশি ও কুরুচিকর মন্তব্যের যে ধারালো চিত্র ফুটে উঠেছে, তা দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে। পর্দার সেই সংগ্রামের মতোই বাস্তব জীবনেও অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতকে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আশির দশকে তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিকের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা অকপটে ভাগ করে নিলেন বলিউডের ‘ধক-ধক’ গার্ল।
‘কাঠির মতো রোগা’ বলে কটাক্ষ
মাধুরী জানান, ক্যামেরার সামনে যখনই নিজেকে মেলে ধরেছেন, তখনই কিছু মানুষ বিচারকের আসনে বসে পড়েছেন। তিনি বলেন, “আমি যখন কাজ শুরু করি, অনেকেই আমায় দেখে বলতেন, ‘এ তো বড্ড রোগা! ওকে কিছু খাইয়ে দাও, গায়ে তো মাংস নেই, একদম কাঠির মতো!’” অভিনয় জীবনের শুরুতেই এমন শারীরিক কটাক্ষ বা ‘বডি শেমিং’-এর শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে।
ভারতীয় সমাজের ‘রেওয়াজ’
ভারতীয় সমাজে কাউকে দেখলেই তাঁর শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করার যে অদ্ভুত প্রবণতা রয়েছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন ‘ভুল ভুলাইয়া ৩’ খ্যাত এই অভিনেত্রী। মাধুরীর কথায়, “আমাদের দেশে কারো সঙ্গে দেখা হলেই প্রথম বাক্যটাই হয়— ‘তুমি তো খুব মোটা হয়ে গেছ’ অথবা ‘বড্ড শুকিয়ে গেছ’। মানুষের কথার মধ্যে কোনো রাখঢাক বা ফিল্টার নেই। ওজন বাড়লে বা কমলে—সবক্ষেত্রেই খুঁত ধরার এক অদ্ভুত মানসিকতা এখানে কাজ করে।”
সোশ্যাল মিডিয়ার অনুপস্থিতিই ছিল আশীর্বাদ
আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোলিং সংস্কৃতির সঙ্গে নিজের সময়ের তুলনা করে মাধুরী বলেন, “তৎকালীন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া না থাকায় আমরা অনেকটা রেহাই পেয়েছিলাম। সমালোচনার মানসিকতা তখনও ছিল, কিন্তু সেই কটু কথাগুলো সরাসরি আমাদের কান পর্যন্ত পৌঁছাত না।” অভিনেত্রীর মতে, নেতিবাচক এই মন্তব্যগুলোকে নিজের ওপর প্রভাব ফেলতে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়।
‘মা বহেন’ ছবির মাধ্যমে মাধুরী ফের একবার প্রমাণ করলেন, গ্ল্যামারের জগতের বাইরেও তিনি একজন সচেতন শিল্পী, যিনি প্রতিনিয়ত সমাজের এই কুৎসিত প্রবণতাগুলোর বিরুদ্ধে নিজের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেন। বডি শেমিংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে মাধুরীর এই সাহসী অবস্থানকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন তাঁর অসংখ্য ভক্ত ও সহকর্মীরা।