‘সব জেনে যাবেন’, দিল্লির বৈঠকে নেমেই বিস্ফোরক সায়নী! তৃণমূল ছাড়ার জল্পনায় ঘি ঢাললেন সাংসদ

গত কয়েক বছর ধরে সায়নী ঘোষকে চেনা যাচ্ছিল এক বিশেষ লুকে— সাদা শাড়ি, সাদা চটি, আর খোঁপা। নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে ব্যঙ্গ করে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্বন কপি’ বা ‘মমতা লাইট’ তকমাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরিচিত ইমেজ ঝেড়ে ফেলে সম্প্রতি কলকাতা বিমানবন্দরে সায়নীকে দেখা গেল জিন্স ও টি-শার্টে। টুপিতে ঢাকা মুখ আর সাধারণ পোশাকে তাঁর এই নতুন লুকই এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
রবিবার দিল্লিতে ‘বিদ্রোহী’ ব্লকের বৈঠক ছিল। সেখানে সায়নীর উপস্থিতি এবং তাঁর এই সাজপোশাক বদল নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে শুধু পোশাক নয়, সায়নীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও বাড়ছে ধোঁয়াশা।
পোশাক বদল নিয়ে কী বলেছিলেন সায়নী?
এর আগে যখন তাঁর সাজপোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, সায়নী জানিয়েছিলেন, গ্রাউন্ড পলিটিক্স বা মাটির কাছাকাছি কাজ করার জন্যই তিনি এমন সাজতেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি একজন অভিনেতা। যখন যে পাত্রে ঢালবে, সেই পাত্রের রূপ আমি ধারণ করে নেব। গ্রামে গিয়ে হিল জুতো বা লেদার জ্যাকেট পরলে সাধারণ মানুষ আমার থেকে দূরে সরে যাবে।” কিন্তু সেই ইমেজ ঝেড়ে ফেলে হঠাৎ এই ‘মডার্ন লুক’ কি নতুন কোনো বার্তার ইঙ্গিত?
দিল্লিতে মুখ খুললেন সায়নী
দিল্লির এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আবহেই রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের যুব সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল হয়েছে। রাজ্য যুব সভাপতির পদ থেকে সায়নীকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই ঘটনার পরেই দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সায়নী কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেন, “সব জেনে যাবেন। যখন বলার সময় আসবে, সব বলে দেব। আমি আপনাদের জবাব দেব না, শুধু নিজের ক্ষেত্রের লোকেদের কাছেই বলব। আমার আওয়াজ সবার কাছেই পৌঁছবে, সঠিক সময়ে।”
সায়নীর এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এবং তাঁর আচমকা লুক পরিবর্তনের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে— তবে কি তিনিও কি কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন? গত কয়েক বছরে টলিউডের বহু তারকা তৃণমূলের হাত ছেড়েছেন, সেই তালিকায় কি এবার সায়নীর নাম যুক্ত হতে চলেছে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন রাজ্য রাজনীতি।