জি-৭ সম্মেলনে ভারতের সরব উপস্থিতি! বিশ্বমঞ্চে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর বার্তা নিয়ে মোদীর ইউরোপ সফর

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে ফ্রান্সের এভিয়ান শহরে শুরু হতে চলেছে জি-৭ (G-7) শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে যোগ দিতে ছয় দিনের সফরে ইউরোপে পাড়ি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফর কেবল ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসারের দিক থেকেই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর ভারত
আগামী ১৬ ও ১৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে ভারতের বিশেষ আমন্ত্রণ প্রমাণ করে বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতাকে। প্রধানমন্ত্রী মোদী সফরের প্রাক্কালে স্পষ্ট করেছেন, তিনি কেবল ভারতের স্বার্থরক্ষার কথা বলবেন না, বরং সারা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ বা ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর আশা-আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরবেন। পর পর আটবার জি-৭ সম্মেলনে ভারতের আমন্ত্রণ পাওয়া বিশ্বশক্তিগুলোর কাছে ভারতের আস্থার এক বড় প্রতীক।
মোদী-ট্রাম্প বৈঠক: কূটনৈতিক সমীকরণ
এই সফরের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার জটিল যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির জল্পনার মাঝে এই সাক্ষাতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বিশ্ব। বিশেষ করে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জগুলো—যেমন হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনা এবং পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাণিজ্যিক চুক্তির অগ্রগতি
দুই নেতার এই বৈঠকে মূলত গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির খসড়া ও তার বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আরও মসৃণ করাই হবে এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
কূটনৈতিক গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফর প্রধানমন্ত্রী মোদীর জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার এক সুবর্ণ সুযোগ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারত যেভাবে নিজেকে একজন নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গড়ে তুলেছে, তা এই সফরের মাধ্যমে আরও দৃঢ় হবে। জি-৭ সম্মেলনে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মোদী-ট্রাম্প বৈঠকের ফল আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।