“আমাকে এঁদের আবেদন স্পর্শ করেছে…”-সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলবদলের জল্পনায় তোলপাড় রাজ্য

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের সুর আরও জোরালো হলো। এবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী এবং উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরাসরি বিরোধী শিবিরে যোগদানের ইঙ্গিত দিলেন। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার তিনি জানালেন, বিদ্রোহী সাংসদদের আবেদন তাকে স্পর্শ করেছে।
শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দীর্ঘ ৭০ মিনিট রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সুদীপবাবু। এই সাক্ষাতের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে যায়। রবিবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অধিকাংশ সাংসদ ও বিধায়ক চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে থাকুন এবং অন্য পদ্ধতিতে পরিষদীয় দল চলুক। তাদের এই উদ্যোগ আমাকে স্পর্শ করেছে, তাই আমি তাদের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন করে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই।
এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে বিদ্রোহী সাংসদরা
খবর অনুযায়ী, বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদরা ইতিমধ্যে ২০ জন সাংসদের সই করা একটি চিঠি প্রস্তুত করেছেন। তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে লোকসভায় আলাদা ব্লক করে বসার আবেদন জানাতে চলেছেন। তাঁদের লক্ষ্য— সংসদে বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি এনডিএ (NDA)-র সঙ্গে বসা।
তৃণমূলের সংসদীয় দলে এই ভাঙন প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত সোমবার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বিদ্রোহী তালিকায় রয়েছেন সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক, মালা রায়, বাপি হালদার, শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী এবং কালীপদ সরেনের মতো প্রথম সারির সাংসদরা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ নেতার এই অবস্থান পরিবর্তন তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। এখন দেখার বিষয়, সোমবার স্পিকারের সঙ্গে এই বিদ্রোহী সাংসদদের সাক্ষাৎ কত বড় রাজনৈতিক ওলটপালট ঘটায়।