‘মমতা ১০০ শতাংশ মিথ্যে বলছেন’! তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি আইনি নোটিস কাকলি পুত্রের

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ এবার পৌঁছাল আইনি লড়াইয়ের আঙিনায়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠালেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে ডা. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। নিজের সম্মানহানির অভিযোগে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যম এবং দলের অন্দরে তাঁর সম্পর্কে যে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ মন্তব্য করা হচ্ছে, তাতেই ক্ষুব্ধ বৈদ্যনাথ। মূলত, ২০২৬-এর নির্বাচনে বারাসত আসন থেকে বৈদ্যনাথের টিকিট পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করেই দলের ভেতরে ‘বিদ্রোহী’ তকমা দেওয়া হয়েছিল কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ ছিল, ছেলের টিকিট না মেলাতেই নাকি সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন।

এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ডা. বৈদ্যনাথ। তিনি জানিয়েছেন, বারাসত থেকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছাই তাঁর ছিল না। বরং উল্টো ছবি তুলে ধরে তিনি দাবি করেছেন, তৎকালীন ‘আই-প্যাক’ (I-PAC) এবং বারাসত জেলা টিএমসিপির সভাপতি সোহম পাল বারংবার তাঁকে নির্বাচনে লড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। ফোনের মেসেজ ও কলের মাধ্যমে ক্রমাগত চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে।

১৫ দিনের আল্টিমেটাম
নিজের পেশাগত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে নোটিসে জানানো হয়েছে, ডা. বৈদ্যনাথ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের মতো জায়গায় কর্মরত একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসক। অযথা তাঁকে এই নোংরা রাজনীতির শিকার বানানো হচ্ছে।

নোটিসে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায় ও সোনালী গুহ—এই সমস্ত নেতাদের ১৫ দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মানহানি মামলা দায়ের করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

‘মমতা মিথ্যে বলছেন’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডা. বৈদ্যনাথ সাফ জানিয়েছেন, “ভদ্রতার খাতিরে এতদিন চুপ ছিলাম। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০০ শতাংশ মিথ্যে কথা বলছেন, তাই আইনি পথে যেতে বাধ্য হলাম।”

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁর ছেলের এই আইনি নোটিস ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, ঘটনাটি দলের অস্বস্তি যে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।