“লুকানোর কিছু নেই!”-সিআইডি তলব নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেক, ১৬ জুন হাজিরা?

 ডিজে সংক্রান্ত উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলায় সিআইডি (CID)-র নোটিস এবং পরবর্তী তলব নিয়ে ফের সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তকারী সংস্থার তলবকে তিনি ‘এড়িয়ে যাচ্ছেন না’ বলে দাবি করে, স্বচ্ছ তদন্তের পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস

শুক্রবার সিআইডি আধিকারিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিস দিতে গেলে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “আমার লুকানোর কিছু নেই। আমাকে যেখানেই যখন ডাকা হয়েছে, আমি গিয়েছি। ভবানী ভবনে সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদেও আমি সহযোগিতা করেছি। আগামী ১৪ তারিখও আমি যাব।” তিনি আরও জানান, সিআইডি আধিকারিকরা যদি আগে থেকে সময় জানিয়ে আসতেন, তবে তিনি অবশ্যই তাঁদের সঙ্গে দেখা করতেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর অফিসের কর্মীর মাধ্যমেই সিআইডি নোটিস পৌঁছে দিয়েছে।

মিডিয়া ট্রায়াল নিয়ে হাইকোর্টের পথে?

তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁর জিজ্ঞাসাবাদের প্রশ্নোত্তর সংবাদমাধ্যমে কীভাবে বেরিয়ে আসছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিষেক। তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, “তদন্তের গোপনীয়তা বজায় রাখা উচিত। কিন্তু আমার উত্তরগুলো কীভাবে মিডিয়াতে বেরিয়ে যাচ্ছে? এটা নিয়ে আমি হাইকোর্টে যাব।”

সিআইডি-র পরবর্তী পদক্ষেপ

এদিকে সিআইডি-র পক্ষ থেকে জারি করা নতুন নোটিসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ১৬ জুন, বেলা ১১টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে তাঁর করা ‘চার তারিখের পর ডিজে বাজবে’—এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই মূলত এই উস্কানি ও প্ররোচনামূলক বক্তব্যের মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

একদিকে সিআইডি-র লাগাতার তলব, অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ এবং আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আগামী কয়েকটা দিন যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, ১৬ জুনের হাজিরায় কী নতুন তথ্য সামনে আসে।

তদন্তে অভিষেকের এই ‘সহযোগিতা’ এবং মিডিয়া ট্রায়াল নিয়ে তাঁর অভিযোগকে আপনি কীভাবে দেখছেন? আপনার মতামত আমাদের জানান!