মার্কিন-ইরান গোপন চুক্তি ফাঁস! বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র?

দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে অবশেষে কি এক টেবিলে বসছে ওয়াশিংটন ও তেহরান? মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মাঝেই প্রকাশ পেল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রস্তাবিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির খসড়া। ইরানের আধা-সরকারি গণমাধ্যম ‘মেহর নিউজ এজেন্সি’র বরাতে জানা গেছে, এই খসড়া চুক্তিতে মোট ১৪টি মূল শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে দুপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেত না মেলায় শর্তগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

ইরানি আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই চুক্তির ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।

খসড়া চুক্তির ১৪ শর্ত: মূল ফোকাস যেখানে

প্রস্তাবিত এই চুক্তির সবচেয়ে বড় চমক হলো লেবাননসহ সবকটি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতার অবিলম্বে ও স্থায়ী অবসান ঘটানো। খসড়া অনুযায়ী প্রধান শর্তগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • হরমুজ প্রণালী ও নৌ অবরোধ: আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, তবে এর নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতেই। একই সাথে ইরান সীমান্ত থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।

  • সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি: যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়েছে তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না এবং দেশটির সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাবে।

  • সামরিক উপস্থিতি হ্রাস: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: খসড়া চুক্তি অনুযায়ী—ইরানের জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার তহবিল আংশিক অবমুক্তি, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং নৌ অবরোধ পুরোপুরি তুলে না নেওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না।

৩০০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ ও পরমাণু প্রতিশ্রতি

অর্থনৈতিক ও পরমাণু ইস্যুতে দুই দেশই বেশ কিছু নমনীয় শর্তে একমত হয়েছে বলে জানা গেছে:

মার্কিন প্রতিশ্রুতি ইরানের প্রতিশ্রুতি
ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা স্থগিত করা। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা।
যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠনে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন। চুক্তি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আওতাধীন থাকা।
আলোচনা চলাকালীন (৬০ দিন) নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা না দেওয়া। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করা।

চূড়ান্ত চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ($UNSC$) প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু গায়েব, বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ইসরায়েল!

এই খসড়া চুক্তির সবচেয়ে রহস্যজনক এবং তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—এতে ইরানের বহুল আলোচিত ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে (যেমন হিজবুল্লাহ ও হামাস) তেহরানের আর্থিক ও সামরিক সমর্থনের বিষয়টি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে এই শান্তিপ্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কারণ ইসরায়েল ইতিমধ্যেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েই যাবে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর দাবি—লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন পরিস্থিতির ওপরই শেষ পর্যন্ত ঝুলে রয়েছে এই সম্ভাব্য মার্কিন-ইরান চুক্তির ভবিষ্যৎ।