‘অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতো ছিলেন মমতা’, অভিষেক-আইপ্যাক নিয়ে তোপ দাগলেন বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়ক দম্পতি

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের সুর ক্রমশ চড়ছে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘নির্মম ও অমানবিক’ আচরণের অভিযোগ তুললেন কোচবিহারের সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বাসুনিয়া। বিধায়কের দাবি, দলীয় কোন্দল ও নেতৃত্বের উদাসীনতায় তিনি ও তাঁর পরিবার চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন।
মমতার বিরুদ্ধে বিধায়কের ক্ষোভ:
বিধায়ক সঙ্গীতা বাসুনিয়ার অভিযোগ, ভোটের ফলাফলের দিন তিনি যখন নিজের এলাকায় ঘেরাও হয়ে ছিলেন, তখন বারবার ফোন করেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনো সাড়া পাননি। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবারের জন্যও জানতে চাননি আমি ঠিক আছি কি না।” শুধু তাই নয়, ছেলের অসুস্থতার কথা জানানো সত্ত্বেও নেত্রী সে বিষয়ে কোনো সহানুভূতি দেখাননি বলে অভিযোগ তাঁর। সঙ্গীতার আরও দাবি, এলাকার উন্নয়নের কাজে গেলে তাঁকে বারবার ‘দূর দূর’ করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাঁর সই জাল করার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
স্বামী ও সাংসদের তোপ:
সঙ্গীতার অভিযোগকে সমর্থন জানিয়ে সরব হয়েছেন তাঁর স্বামী তথা তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বাসুনিয়া। তিনিও বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। জগদীশ বাবু ক্ষোভের সুরে বলেন, “কোচবিহারে সিতাই বিধানসভাতেই আমার স্ত্রী জয়ী হয়েছিল। অথচ বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর বদলে আমাদের হেনস্থা করা হয়েছে। ৯ তারিখ পর্যন্ত এলাকায় কর্মীদের ওপর হামলা চললেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে কোনো সাহায্য বা খোঁজ আমরা পাইনি।”
দলে গণতন্ত্র নেই: আইপ্যাক ও অভিষেকের বিরুদ্ধে আক্রমণ
বিদ্রোহী এই দম্পতির দাবি, তৃণমূলে গণতন্ত্রের ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই। দলের ভেতর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশই শেষ কথা। আইপ্যাক (I-PAC) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের ধরনেই দলের এই করুণ দশা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জগদীশ বাবু। তাঁর কথায়, “আইপ্যাকের ছেলেরা টাকা তুলেছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সব জেনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতো চুপ করে ছিলেন।”
প্রসঙ্গত, এর আগে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়ে যে বিদ্রোহীরা চিঠি দিয়েছিলেন, সেই তালিকায় নাম ছিল সঙ্গীতা বাসুনিয়ার। এবার প্রকাশ্যে মমতার বিরুদ্ধে তাঁর এই মন্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।