‘জল জমলেই কড়া ব্যবস্থা’, বর্ষার মোকাবিলায় কোমর বেঁধে ময়দানে পুরসভা, নজরে ‘ব্ল্যাক স্পট’

বর্ষা প্রায় দোরগোড়ায়। প্রতি বছরের মতো এবারও ভারী বৃষ্টিতে কলকাতার রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ তুঙ্গে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন পুর-প্রশাসনের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ—বর্ষায় তিলোত্তমাকে জলমুক্ত রাখা। এই ‘অ্যাসিড টেস্ট’ সফল করতে এখন থেকেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কলকাতা পুরসভা।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা:
কলকাতা পুরসভার বর্তমান প্রশাসকের কাছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, বর্ষার মরশুমে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে নাগরিকদের কোনোভাবেই সমস্যার মুখে পড়তে দেওয়া যাবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশের পর পুর-প্রশাসনে তৎপরতা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। নিকাশি ও জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক জরুরি বৈঠক সেরে ফেলেছেন পুর-প্রশাসক। শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতায় বেহালার একাধিক ওয়ার্ডের নিকাশি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
শনাক্ত ‘ব্ল্যাক স্পট’:
পুরসভা সূত্রে খবর, বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শহরের যে এলাকাগুলিতে ভারী বৃষ্টি হলেই জল জমে, সেগুলিকে ‘ব্ল্যাক স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে—ঠনঠনিয়া, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, কলেজ স্ট্রিট, তপসিয়া, তিলজলা, পার্ক স্ট্রিট, ভবানীপুর, গল্ফ গার্ডেন, নাকতলা ও বেহালার মতো এলাকা।
বিশেষ পরিকল্পনা:
এই ‘ব্ল্যাক স্পট’গুলিতে জমা জল দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য পুরসভা বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে:
অতিরিক্ত পাম্প: এলাকাগুলিতে আগেভাগেই অতিরিক্ত হাই-পাওয়ার ড্রেনেজ পাম্প বসানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সমন্বয়: রাজ্য সেচ দফতরের সঙ্গে যৌথভাবে শহরের প্রধান খাল ও ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনগুলির সংযোগ-পথ পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে কোথাও পলি জমে জল চলাচল বাধা না পায়।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান: বর্ষায় ডেঙ্গুর প্রকোপ রুখতে শহরের পরিত্যক্ত ও ফাঁকা বাড়িগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সাফাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিকাশি বিভাগের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, অতি ভারী বৃষ্টি হলেও রেকর্ড সময়ে রাস্তা থেকে জল সরানোর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি রাখা হয়েছে। পুর-প্রশাসনের এই তৎপরতা আদৌ তিলোত্তমাকে এবারের বর্ষায় জলমুক্ত রাখতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।