হুগলি নদীর নীচে এবার ছুটবে গাড়ি! আট হাজার কোটির প্রজেক্টে কলকাতার যানজট কি অতীত হবে?

কলকাতার গ্রিন লাইনের মেট্রো গঙ্গা নদীর নিচ দিয়ে ইতিমধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে। এবার তার পথ অনুসরণ করে হুগলি নদীর নিচে দিয়ে তৈরি হতে চলেছে আন্ডার-ওয়াটার টানেল। রাজ্য সরকারের এই महत्वाকাঙ্ক্ষী প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা কেবল কলকাতার যানজটই কমাবে না, বরং বন্দর বাণিজ্যেও এক নতুন জোয়ার আনবে।
প্রকল্পের মূল বিষয়গুলো এক নজরে:
দৈর্ঘ্য ও বিস্তৃতি: কলকাতা থেকে হাওড়ার আলমপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেলটি তৈরি হবে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে এলিভেটেড করিডর, রেল ওভারব্রিজ এবং অ্যাপ্রোচ রোড।
সরাসরি সংযোগ: ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে এই সুড়ঙ্গ। বারাণসী-কলকাতা আর্থিক করিডরের সাথেও ভবিষ্যতের এই টানেলকে জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেট: এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে খরচ হবে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা।
কারা যুক্ত: এই প্রজেক্টের জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং শিপিং ডিপার্টমেন্ট ইতিমধ্যেই অনাপত্তি পত্র (NOC) প্রদান করেছে।
কেন এই টানেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
১. বিদ্যাসাগর সেতুর চাপ কমবে: বর্তমানে বন্দরের পণ্যবাহী ট্রাকের ওপর নির্ভরশীল বিদ্যাসাগর সেতুতে নিত্যদিন ভয়াবহ যানজট থাকে। টানেল চালু হলে ভারী ট্রাকগুলি সহজেই যাতায়াত করতে পারবে, ফলে ছোট গাড়ি ও সাধারণ যাত্রীরা স্বস্তি পাবেন।
২. বন্দরের গুরুত্ব বৃদ্ধি: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের গুরুত্ব বাড়বে, যা রফতানি শিল্পে নতুন গতি আনবে। ডক পর্যন্ত সরাসরি ট্রাক পৌঁছে যাওয়ায় পণ্য পরিবহনের খরচ ও সময় দুটোই কমবে।
৩. শিল্প বিনিয়োগ: পরিবহন ব্যবস্থার এই আমূল পরিবর্তন ভবিষ্যতে রাজ্যে নতুন শিল্প বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা:
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক রিভিউ মিটিংয়ে এই প্রকল্পের গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মেয়র এবং বিধায়কদের পরামর্শ মেনেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
হুগলি নদীর তলদেশ দিয়ে এই টানেল তৈরি হলে তা কেবল কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই উন্নত করবে না, বরং বাংলার অর্থনীতির মানচিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।