মেলোডি উপহারের জাদুতে শেয়ার বাজারে তুফান! নামের ভুলে কোটিপতি হওয়ার নেশায় বিনিয়োগকারীরা?

শেয়ার বাজারে অনেক সময় গুজব বা বিভ্রান্তি থেকে বড় মুনাফা তৈরি হয়, তবে এবারের ঘটনাটি একেবারেই বিরল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইতালি সফর এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে দেওয়া বিখ্যাত ‘মেলোডি’ টফি নিয়ে আলোচনার রেশ পৌঁছে গেল স্টক মার্কেটে। আর এই ঘটনা ঘটিয়ে দিল এক বিরাট নামের বিভ্রাট।
কী ঘটেছিল?
মে মাসের ২০ তারিখে ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং জর্জিয়া মেলোনির বৈঠকের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে মেলোডি টফি নিয়ে আলোচনার ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ হয়তো ভেবেছিলেন, এই ‘মেলোডি’ টফির নির্মাতা কোম্পানি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত। ব্যস, শুরু হয়ে গেল ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর শেয়ার কেনার হিড়িক!
২২ দিনে ১১৬ শতাংশ রিটার্ন!
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিনিয়োগকারীদের এই অন্ধ দৌড় শেয়ারের দামকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে। ২০ মে যে পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ছিল ৫ টাকা, মাত্র ২২ দিনের ব্যবধানে ১১ জুন তা ১০.৮১ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ, মাত্র তিন সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা ১১৬ শতাংশের বেশি রিটার্ন পেয়েছেন!
নামের ফাঁদে বিনিয়োগকারীরা:
বিনিয়োগকারীদের এই উদ্দীপনার মাঝে লুকিয়ে আছে এক বড় ভুল। যে ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর শেয়ার সবাই কিনছেন, সেটি মূলত ইনফ্রাস্ট্রাকচার, রিয়েল এস্টেট এবং পেপার রিসাইক্লিংয়ের সাথে যুক্ত। এর সাথে জনপ্রিয় মেলোডি, পার্লে-জি বা মোনাকো বিস্কুট উৎপাদনকারী কোম্পানি ‘পার্লে প্রোডাক্টস’-এর কোনো সম্পর্কই নেই।
পার্লে প্রোডাক্টস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মায়াঙ্ক শাহ স্পষ্ট করেছেন, পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ এবং তাদের ব্যবসা সম্পূর্ণ আলাদা। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, মেলোডি প্রস্তুতকারী মূল কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তই নয়।
সতর্কবার্তা:
শেয়ার বাজার আবেগ বা গুজবের জায়গা নয়। একটিমাত্র নাম বা ট্রেন্ড দেখে কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, এই ঘটনাটি তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। বিনিয়োগকারীদের উচিত বিনিয়োগের আগে কোম্পানির ব্যবসা, ব্যালেন্স শিট এবং মালিকানা সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নেওয়া। না বুঝে বিনিয়োগ করলে রাতারাতি মুনাফা হলেও, তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে।