রাজারহাটে বড়সড় বিতর্ক! অদিতি মুন্সি ও দেবরাজের পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার বিপুল ত্রাণ

সরকারি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে চরম বিতর্কের মুখে রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী তথা রাজনীতিবিদ দেবরাজ চক্রবর্তী। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সঠিক সময়ে বিতরণ না করে দলীয় কার্যালয়ে মজুত করে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার খবর চাউর হতেই স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
কী পাওয়া গেল অফিস থেকে?
অভিযোগ উঠেছে যে, রাজারহাটে অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তীর পার্টি অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু ত্রাণই নয়, পাশপাশি তৃণমূলের স্থানীয় একটি ওয়ার্ড অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু ধারালো অস্ত্রশস্ত্র। এই ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বিধায়কের ক্ষোভ:
ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান বর্তমান বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি সরাসরি প্রাক্তন বিধায়ক ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দাবি, যে সামগ্রী মানুষের সেবায় ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, তা রাজনৈতিক কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারি ত্রাণ নিয়ে এই ধরনের লুকোচুরি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সামগ্রী কেন গুদামজাত করে রাখা হয়েছিল, তার জবাব দিতে হবে।”
রাজনৈতিক তরজা:
এই ঘটনায় বিরোধী শিবির থেকে তীব্র আক্রমণ শুরু হয়েছে। অভিযোগ, আসন্ন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ত্রাণ সামগ্রী মজুত করে রাখা হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করার শামিল। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অস্ত্র উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ত্রাণ সামগ্রী ও অস্ত্রশস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কি না এবং এর পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের পর কি তবে দলীয় কার্যালয়গুলো এভাবে গুদামঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল?