সমুদ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ থেকে রক্ষা! তেল ট্যাঙ্কার থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড উদ্ধার নৌবাহিনীর!

ভারত মহাসাগরে একটি বড় ধরণের সামুদ্রিক বিপর্যয় এড়ালো ভারতীয় নৌবাহিনী। ওমান উপকূলের কাছে একটি তেল ট্যাঙ্কারের জ্বালানি প্রকোষ্ঠে আটকে থাকা অবিস্ফোরিত ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড (Warhead) অত্যন্ত সাহসিকতা ও নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করলেন নৌবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল। এই সফল অভিযানের ফলে কয়েক হাজার টন জ্বালানি নিয়ে ভেসে থাকা বিশাল জাহাজটি নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
কী ঘটেছিল? মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কার ‘এমটি অলিম্পিক লাইফ’ গত ২৬ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ থেকে কোচিন অভিমুখে রওনা দিয়েছিল। যাত্রাপথে ওমান উপকূলের কাছে জাহাজটিতে একটি রহস্যময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে জানা যায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ জাহাজের কাঠামো ভেদ করে সরাসরি জ্বালানি ট্যাঙ্কে গিয়ে আটকে আছে। এটি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ওই অঞ্চলে বিশাল সামুদ্রিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারত।
নৌবাহিনীর সফল ‘ইওডি’ অপারেশন সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই কোচি-ভিত্তিক সাউদার্ন নেভাল কমান্ড তাদের বিশেষজ্ঞ ‘এক্সপ্লোসিভ অর্ডন্যান্স ডিসপোজাল’ (EOD) টিমকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করে। নৌবাহিনীর এই দক্ষ দলটি অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পুরো অভিযানটি পরিচালনা করে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রথমে ওয়ারহেডের বিস্ফোরক ব্যবস্থা শনাক্ত করা হয় এবং পরে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়। এরপর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ নিরাপদে জাহাজ থেকে অপসারণ করে পরবর্তী তদন্তের জন্য নিরাপদ স্থানে পাঠানো হয়েছে।
ভারতীয় নৌবাহিনীর দক্ষতা নৌবাহিনীর এই অভিযান তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতার আরেকটি অনন্য উদাহরণ। অতীতেও আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারতীয় নৌবাহিনী নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে নৌবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকায় একটি সক্রিয় ওয়ারহেড থাকা মানেই বারুদের স্তূপের ওপর জাহাজ চালানো। নৌবাহিনীর সময়োচিত হস্তক্ষেপে হাজার হাজার লিটার জ্বালানি এবং জাহাজের কর্মীদের জীবন রক্ষা পেয়েছে।