কৃষক বন্ধু ও শস্য বিমায় বড় দুর্নীতি! নতুন কৃষিমন্ত্রীর কড়া হুঙ্কারে শোরগোল

রাজ্যের কৃষি দফতরে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই বড়সড় রদবদল ও স্বচ্ছতা আনার ইঙ্গিত দিলেন নতুন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। পূর্বতন সরকারের আমলে ‘কৃষক বন্ধু’ ও ‘শস্য বিমা’ প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ভুয়ো উপভোক্তাদের সরিয়ে প্রকৃত কৃষকদের প্রাপ্য সুনিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
প্রকল্পে বড়সড় দুর্নীতির ইঙ্গিত নবান্নে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতোই ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পেও প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের পরিবারের লোকেরাও এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন, যা নীতিগতভাবে ভুল।” দুধকুমার মণ্ডলের মতে, এই পুরো ব্যবস্থায় বড় ধরনের ‘ঝাড়াই-বাছাই’ প্রয়োজন। এখন থেকে এই প্রকল্পগুলিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’ ও ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’র সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, প্রকৃত ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষিরা কোনোভাবেই বঞ্চিত হবেন না।
সারের কালোবাজারি রুখতে কড়া নজরদারি বর্ষার খারিফ মরশুমের শুরুতেই চাষিদের সার ও উন্নত মানের বীজ পাওয়া নিয়ে মন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, “সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ কালোবাজারি করলে রেহাই নেই। ব্লকস্তরের কৃষি আধিকারিকদের (ADA) মাধ্যমে সরাসরি সার ও বীজ বণ্টন প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজর রাখা হবে।” পাশাপাশি, সরকারি উদ্যোগে সার্টিফাইড বীজ সরাসরি চাষিদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও নিয়েছেন তিনি।
উন্নয়ন থমকে দেওয়া যাবে না রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পঞ্চায়েত সদস্যদের গণ-পদত্যাগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই গ্রামীণ উন্নয়ন থমকে না যাক। ভীতিগ্রস্ত সদস্যদের বলবো, যে যেখানে আছেন সেখানেই থেকে কাজ করুন। উন্নয়নের জন্য আসা সরকারি টাকা খরচ না হয়ে পড়ে থাকা মানেই জনগণের ক্ষতি।”
বিগত সরকারের দাবি নস্যাৎ বিগত সরকারের আমলে কৃষকদের আয় তিন গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার যে দাবি করা হতো, এদিন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন নতুন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিগত সরকার কী দাবি করেছিল, তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। জনগণই তার বিচার করেছে। আমাদের সরকারের কাজের মূল্যায়ন আগামী দিনে মানুষই করবে।”
সব মিলিয়ে, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় ও সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফেরাতে নতুন মন্ত্রী যে কঠোর মনোভাব দেখালেন, তা আগামী দিনে রাজ্যের কৃষি মানচিত্রে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।