‘জাতীয় দলে ফুটবলার না ছাড়া দেশদ্রোহ!’ ক্লাবগুলিকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী

ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে এবার কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্র। সোমবার নয়াদিল্লিতে আইএসএল (ISL) ক্লাবগুলোর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য ক্লাবগুলিকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন। দেশের হয়ে ফুটবলারদের জাতীয় শিবিরে না ছাড়ার ঘটনাকে সরাসরি ‘দেশদ্রোহ’ বলে আখ্যা দিলেন মন্ত্রী।

মোহনবাগানকে কি পরোক্ষ নিশানা? যদিও মন্ত্রী সরাসরি কোনো ক্লাবের নাম উচ্চারণ করেননি, তবে সাম্প্রতিক অতীতে বারবার মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে জাতীয় শিবিরে ফুটবলার না পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ক্রীড়ামন্ত্রীর এই মন্তব্য সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট বা আমার সঙ্গে ক্লাবগুলোর মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দেশের প্রয়োজনে ফুটবলার না ছাড়া অপরাধ। আগামী দিনে যারা এমন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় ও দাবি:

  • ভারতীয় কোচের গুরুত্ব: ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে ক্লাবগুলোকে অনুরোধ করেছেন, প্রধান কোচ হিসেবে বিদেশি রাখা হলেও, সহকারীর পদে যেন ভারতীয় কোচদের রাখা হয়।

  • ভারতীয় স্ট্রাইকারদের প্রাধান্য: প্রতিটি ম্যাচে অন্তত একজন ভারতীয় স্ট্রাইকারকে ৯০ মিনিট খেলানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে জাতীয় দলের জন্য মানসম্পন্ন স্ট্রাইকার উঠে আসে।

  • স্যালারি ক্যাপ: ফুটবলারদের মাত্রাতিরিক্ত পারিশ্রমিক নিয়ন্ত্রণে আনতে ‘স্যালারি ক্যাপ’ বা বেতন কাঠামোর উর্ধ্বসীমা নির্ধারণের দাবি তুলেছে ইস্টবেঙ্গল সহ বেশ কয়েকটি ক্লাব। ফেডারেশন যদিও নীতিগতভাবে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে নারাজ, তবে ক্লাবগুলোকে গ্রাসরুট পর্যায়ে খরচের জন্য বেতন কিছুটা কমানোর অনুরোধ করা হতে পারে।

  • ডুরান্ড কাপ: ডুরান্ড কাপে বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যা কমানোর বিষয়টি নিয়ে ফেডারেশন ইতিবাচক। ২৫ জুন থেকে শুরু হতে চলা এই টুর্নামেন্টে বিদেশি সংখ্যা ৪ থেকে কমিয়ে ৩ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতীয় ফুটবলের নতুন রোডম্যাপ: আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলা আইএসএল ২০২৬-এর জন্য ফেডারেশন ১৫ জুনের মধ্যেই একটি ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠন করছে। আগামী চার বছর এই মডেল মেনেই চলবে ভারতীয় ফুটবল। লক্ষ্য একটাই—ক্লাব ফুটবলের আড়ালে যাতে জাতীয় দলের স্বার্থ বিঘ্নিত না হয়।

কেন্দ্রের এই কঠোর অবস্থান ভারতীয় ফুটবলে শৃঙ্খলা ফেরাতে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।

ক্লাব ফুটবলের স্বার্থ নাকি দেশের স্বার্থ—ভারতীয় ফুটবলের এই বিতর্কে আপনার অবস্থান কী? আপনি কি মনে করেন ক্লাবগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় দলের জন্য ফুটবলার ছাড়তে বাধ্য করা উচিত? কমেন্ট করে জানান আপনার মতামত।