‘আজ রাতেই বড় আঘাত!’ ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, নজরে খার্গ দ্বীপের তেল পরিকাঠামো

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন ছাপিয়ে ফের রণংদেহী মেজাজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণায় ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, খুব শীঘ্রই তেহরানের ওপর ‘ভয়ঙ্কর হামলা’ চালানো হবে।

ট্রাম্পের লক্ষ্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন খুব শীঘ্রই ইরানের খনিজ তেল রফতানির প্রধান কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ (Kharg Island) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিকাঠামো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চলেছে। ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকা ও সংশ্লিষ্ট দেশ উভয়ের জন্যই লাভজনক। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

কেন এই উত্তজনা? মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টা হামলা ও আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এই উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাডার এবং প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালাচ্ছে।

শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত: দীর্ঘদিন ধরে চলা শান্তি আলোচনার গতিপ্রকৃতি নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই নিজের হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, ইরান আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করছে এবং এর মূল্য তাদের চোকাতেই হবে। অন্যদিকে, ইরানের তরফ থেকে মার্কিন দাবিকে যুদ্ধের অজুহাত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের খবর, তীব্র হামলা-পাল্টা হামলার মাঝেও পর্দার আড়ালে আলোচনা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি।

বিশ্বের দুই শক্তির এই মুখোমুখি অবস্থানে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা এখন চরম হুমকির মুখে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল।