‘রোজ খাও আন্ডে’ অতীত! ডিমের দামের ঝটকায় পকেটে টান, কেন আগুন বাজার?

‘সানডে হো ইয়া মন্ডে, রোজ খাও আন্ডে’—এই জনপ্রিয় স্লোগানটি এখন যেন অতীত হতে চলেছে। সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক ডায়েটের অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘ডিম’ এখন রীতিমতো বিলাসিতার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতার জেরে ডিমের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর রান্নার বাজেট কার্যত লন্ডভন্ড।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি জলপাইগুড়ি-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, ডিমের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে ৩০টি ডিমের একটি পাতার (প্যাকেট) দাম ২১০ থেকে ২১৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। খুচরো বাজারে একটি ডিম কিনতে গেলে গুণতে হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকা। ব্যবসায়ীদের মতে, কয়েক সপ্তাহ আগেও এই দাম অনেকখানি কম ছিল। এমনকি পাইকারি বাজারে সাত কার্টুন ডিমের দাম প্রায় ১৪৫০ টাকায় পৌঁছেছে।
কেন বাড়ছে দাম? ডিমের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন বিক্রেতা ও বিশেষজ্ঞরা:
-
উৎপাদন ঘাটতি: চাহিদা তুলনায় বাজারে পর্যাপ্ত ডিমের জোগান নেই, যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই দামের ওপর প্রভাব পড়ছে।
-
রাজনৈতিক অস্থিরতা: ইদানীং রাজনৈতিক প্রতিবাদের অস্ত্র হিসেবে ‘ডিম ছোড়া’-র প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে ডিমের চাহিদা যেমন বাড়ছে, তেমনই বাজারদরও চড়া হচ্ছে।
-
অস্বাভাবিক সময়: সাধারণত শীতকালে কেক বা বেকারির প্রয়োজনে ডিমের চাহিদা বাড়লে দাম বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বছরের এই সময়ে এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি বেশ অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন ক্রেতারা।
ক্রেতাদের নাভিশ্বাস বাজারে এখন এক অদ্ভুত চিত্র। ভালো মানের ডিমের পাশাপাশি পচা বা নিম্নমানের ডিমেরও আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, নিত্যপ্রয়োজনীয় এই খাদ্যপণ্যটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য হিসেব কষে কেনার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের বাজেটে এই বাড়তি চাপ যে বেশ বড় সংকট তৈরি করেছে, তা বলাই বাহুল্য। কবে নাগাদ ডিমের বাজার স্বাভাবিক হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট উত্তর আপাতত নেই প্রশাসনের কাছেও।