‘বাজেট মানেই ট্রেডমিল নয়!’ উত্তরকন্যায় দাঁড়িয়ে পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর

আগামী ২০ জুন রাজ্য বাজেট পেশের আগেই উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের ব্লু-প্রিন্ট তৈরির লক্ষ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন তিনি। পাহাড় ও সমতলের মানুষের প্রত্যাশাকে বাজেটে প্রতিফলিত করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
ট্রেডমিলের বাজেট বনাম নতুন দিশা এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমেই পূর্বতন সরকারের আর্থিক নীতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, “আগে বাজেট তৈরি হত ট্রেডমিলে। আমাদের সরকারের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ আলাদা।” তাঁর মতে, রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় অনেক সহজ হবে, যা আগের সরকারের আমলে সম্ভব ছিল না।
উত্তরবঙ্গের জন্য যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিলেন অর্থমন্ত্রী:
-
জিএসটি আপিল ট্রাইব্যুনাল: শিলিগুড়িতে জিএসটি-র আপিল ট্রাইব্যুনাল তৈরির যে দাবি উঠেছে, তাকে অত্যন্ত ‘ন্যায্য’ বলে অভিহিত করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের বহু ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধান হবে।
-
সমন্বিত উন্নয়ন: চা শিল্প, পর্যটন, কৃষি (বিশেষ করে আম) এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিশা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
-
দিল্লির সাথে সমন্বয়: মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনেক সমস্যারই রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। তবে রাজ্যের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা মাথায় রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
বাজেটের রূপরেখা আসন্ন বাজেটটি আগামী ৮ মাসের জন্য পেশ করা হবে বলে জানা গেছে। বাজেট তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তবেই পদক্ষেপ নেব। বাজেট কোনো মেকি চমক নয়, বরং উন্নয়নের প্রকৃত দিশা দেখাবে।”
উত্তরবঙ্গ যে নতুন সরকারের কাছে বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে, আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ২০ জুনের বাজেটে উত্তরবঙ্গের জন্য অর্থমন্ত্রী ঠিক কতটা আর্থিক বরাদ্দের ঘোষণা করেন।