বিদ্রোহী সাংসদদের চিঠিতে সই থেকে রাজকীয় কামব্যাক! কোন এক ঘটনায় রাতারাতি বদলে যায় সায়নী ঘোষের জীবন?

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলা রাজনীতির অন্যতম এক চর্চিত ও গ্ল্যামারাস নাম সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)। সংসদ হোক কিংবা দলীয় সভা—সব জায়গাতেই তাঁর বক্তব্যের ধার এবং বাগ্মিতা নজর কাড়ে সাধারণ মানুষের। সম্প্রতি এনডিএ-র (NDA) শরিক হতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে লেখা তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের একটি চিঠিতে সায়নী ঘোষের সই রয়েছে বলেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে রাজনীতির আঙিনায় তিনি যতই দাপট দেখান না কেন, সায়নীর আসল এবং প্রথম পরিচয় কিন্তু একজন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবেই। তিনি নিজেও বহুবার অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তাঁর প্রথম প্রেম সিনেমা এবং দ্বিতীয় প্রেম হলো রাজনীতি। আজ DailyHunt-এর বিশেষ প্রতিবেদনে দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে একটি মাত্র ছবি রাতারাতি মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল এই বঙ্গকন্যার ভাগ্যের।

যে ছবি বদলে দিল সায়নীর জীবন
২০১০ সালে ছোটপর্দার মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখেন সায়নী ঘোষ। এরপর বেশ কিছু কাজ করলেও, ২০১৩ সালে টলিউডের বিখ্যাত পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর ব্লকবাস্টার ছবি ‘কানামাছি’ সায়নীর কেরিয়ারের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেয়। এই ছবিতে ‘পায়েল’ নামক একটি লড়াকু ও চনমনে চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আপামোর দর্শকদের মন জয় করে নেন। এই একটি হিট ছবিই টলিউডে তাঁর পায়ের তলার মাটি শক্ত করে দেয়। এরপর আর সায়নীকে কখনও পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক প্রথম সারির পরিচালকদের ছবিতে সুযোগ পেতে শুরু করেন তিনি।

সাহসী চরিত্র ও প্রথম সারির পরিচালকদের প্রথম পছন্দ
টলিউডে চিরকালই ছকভাঙা ও বাছাই করা কাজ করতে পছন্দ করেন সায়নী। বাণিজ্যিক ছবির চেনা ছক পেরিয়ে বেশ কিছু সাহসী ও সামাজিক বার্তা ধর্মী চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ফলে সৃজিৎ মুখোপাধ্যায় থেকে অনীক দত্ত—বাঙালি মায়েস্ত্রো পরিচালকদের পছন্দের তালিকায় বরাবরই ওপরের দিকে থেকেছে সায়নীর নাম।

সৃজিৎ মুখোপাধ্যায়ের নারী-কেন্দ্রিক মেগা ছবি ‘রাজকাহিনী’ (২০১৫)-তে ‘কোলি’ চরিত্রটি হোক কিংবা অনীক দত্তের কালজয়ী ছবি ‘অপরাজিত’ (২০২২)-তে সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী বিজয়া রায়ের (চরিত্রের নাম বিমলা) ভূমিকায় সায়নী ঘোষের দাপুটে অভিনয় আজও সিনে-প্রেমীদের মনে গেঁথে রয়েছে। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শত্রু (২০১১), মায়ের বিয়ে (২০১৫), মেঘনাদ বধ রহস্য (২০১৭), দ্বিখণ্ডিত (২০১৯), অন্দরকাহিনি (২০১৯), ড্রাকুলা স্যার (২০২০) এবং সাম্প্রতিককালের বহুল প্রশংসিত ছবি ‘লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল’।

রাজনীতি বনাম অভিনয়
রাজনীতিতে পা রাখার পরও অভিনয় জগত থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেননি এই সাংসদ-অভিনেত্রী। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজের চাপ ও ব্যস্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সিনেমার কাজ কিছুটা কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। তবে কাজের গুণমানের সঙ্গে তিনি কখনও আপোস করেন না।

প্লে-ব্যাক সিঙ্গার সায়নী! জানেন কি তাঁর এই গোপন গুণ?
অভিনয় এবং রাজনীতির বাইরেও সায়নী ঘোষের যে একটি দারুণ গোপন প্রতিভা বা ট্যালেন্ট রয়েছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। সায়নী একজন অত্যন্ত দক্ষ ও সুকণ্ঠী গায়িকা। রাজ চক্রবর্তীর সুপারহিট ছবি ‘বোঝে না সে বোঝে না’-তে বিখ্যাত গায়ক অ্যাশ কিং-এর সঙ্গে জুটি বেঁধে প্লে-ব্যাক করেছিলেন তিনি। ছবির অত্যন্ত জনপ্রিয় রোম্যান্টিক গান ‘কঠিন’-এ গলা দিয়েছিলেন সায়নী। এই দুর্দান্ত গানের জন্য সে বছর একটি সম্মানজনক পুরস্কারও ঝুলিতে পুরেছিলেন তিনি।

টেলিপর্দার সাধারণ এক অভিনেত্রী থেকে আজকের দিল্লির সংসদ ভবন কাঁপানো সাংসদ—সায়নী ঘোষের এই দীর্ঘ ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পথটি আজ ভাবলে খোদ অভিনেত্রীরও গায়ে কাঁটা দেয়। বর্তমান রাজনৈতিক টালমাটালের আবহে সায়নী আগামী দিনে কী ভূমিকা নেন, এখন সেদিকেই নজর গোটা বাংলার।