জুলাই থেকেই বাংলায় সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে বিদ্যুতের নিয়ম! টাকা শেষ হলেই কি কেটে দেওয়া হবে বাড়ির লাইন?

প্রতি মাসের শেষে বিদ্যুতের বিল হাতে পাওয়ার আগে পর্যন্ত অনেকের বুকেই দুরুদুরু কাঁপন চলে— এবার কত টাকা বিল আসবে? বেশি বিল আসার এই টেনশন এবং মাস শেষের ঝঞ্ঝাট থেকে এবার স্থায়ী মুক্তি পেতে চলেছে বাংলার মানুষ। রাজ্যে এবার পুরোদমে চালু হতে চলেছে বিদ্যুতের প্রিপেইড স্মার্ট মিটার। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে এবার সর্বত্র এই স্মার্ট মিটার বসানো হবে। আগামী জুলাই মাস থেকেই এই কাজ পুরোদমে শুরু হতে চলেছে। উল্লেখ্য, রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা বা WBSEDCL ইতিমধ্যেই প্রায় ৭ লক্ষ গ্রাহকের বাড়িতে এই স্মার্ট মিটার বসিয়ে ফেলেছে।
স্মার্ট মিটার কী এবং কীভাবে কাজ করে?
সাধারণ মিটারে মাসের শেষে রিডিং দেখে বিল পাঠানো হয়। কিন্তু স্মার্ট মিটার হলো অনেকটা আপনার প্রিপেইড মোবাইল কানেকশনের মতো। অর্থাৎ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগেই আপনাকে টাকা রিচার্জ করে রাখতে হবে। এই মিটারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, প্রতিদিন আপনার কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, তা আপনি নিজেই ট্র্যাক করতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন, রিচার্জ শেষ হয়ে অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স শূন্য বা নেগেটিভ হয়ে গেলে কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
মোবাইল অ্যাপে রিচার্জের সহজ পদ্ধতি:
বাড়িতে বসে অত্যন্ত সহজে এই স্মার্ট মিটার রিচার্জ করা সম্ভব। এর জন্য গ্রাহকদের ফোনে একটি বিশেষ সরকারি অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। জেনে নিন ধাপে ধাপে রিচার্জের নিয়ম:
প্রথমে মোবাইলে WBSEDCL-এর অফিসিয়াল অ্যাপ ‘বিদ্যুৎ সহযোগী’ (Bidyut Sahayogi) ডাউনলোড করুন।
অ্যাপটি খোলার পর আপনার নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করুন।
মোবাইলে একটি ওটিপি (OTP) আসবে, সেটি ইনপুট করলেই স্ক্রিনে আপনার নাম এবং কনজিউমার আইডি ভেসে উঠবে।
এরপর অ্যাপের মূল ড্যাশবোর্ডে রিচার্জ, দৈনিক বিদ্যুৎ খরচের হিসাব এবং কারেন্ট ব্যালেন্স দেখার অপশন পেয়ে যাবেন।
রিচার্জ অপশনে গিয়ে ইউপিআই (UPI), ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে সহজেই টাকা ভরা যাবে। তবে মনে রাখবেন, এখানে ন্যূনতম ১০০ টাকার রিচার্জ করা বাধ্যতামূলক।
স্মার্ট মিটারের সুবিধা ও অসুবিধা:
সুবিধা: প্রতি মাসে এককালীন বড় অঙ্কের বিল মেটানোর চাপ থাকবে না। নিজের বাজেট অনুযায়ী যখন খুশি রিচার্জ করা যাবে এবং প্রতিদিনের খরচের ওপর কড়া নজর রাখা সম্ভব হবে। ফলে অপচয় কমবে।
অসুবিধা: প্রধান অসুবিধা হলো, টাকা শেষ হওয়ার আগেই রিচার্জ নিশ্চিত করতে হবে, নয়তো হুট করে লাইন কেটে যেতে পারে। এছাড়া যাদের বাড়িতে স্মার্টফোন নেই বা যারা অনলাইন রিচার্জে অভ্যস্ত নন, প্রথম প্রথম তাঁদের দৈনিক ব্যালেন্স চেক করতে বা রিচার্জ করতে কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।