অভিষেকের সম্পত্তিতে ‘বেআইনি নির্মাণ’ বিতর্ক! কড়া অবস্থানে কলকাতা পুরনিগম, তলব স্ট্যাটাস রিপোর্ট

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সম্পত্তিতে কথিত ‘বেআইনি নির্মাণ’ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিতর্কে এবার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে চলেছে কলকাতা পুরনিগম। কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের প্রেক্ষিতে পুর প্রশাসন আর কোনো অতিরিক্ত সময় দিতে নারাজ।

৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব
পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশের পর, কলকাতা পুরনিগমের কমিশনার স্মিতা পান্ডে বিল্ডিং এবং অ্যাসেসমেন্ট বিভাগকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ওই সম্পত্তির বর্তমান অবস্থান বা ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার জন্য মাত্র ৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, কমিশনার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে আর কোনো ধরনের গড়িমসি বা বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না।

হাইকোর্টের নির্দেশ ও পুরসভার অবস্থান
কলকাতা হাইকোর্ট সাম্প্রতিক এক রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছিল, অনুমোদিত নকশার বাইরে কোনো নির্মাণ থাকলে কলকাতা পুরনিগম আইন মেনে সেই অংশ চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলতে পারে। এই আইনি রক্ষাকবচ হাতে পাওয়ার পরই পুরনিগমের শীর্ষ কর্তারা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। কমিশনার স্মিতা পান্ডে সম্প্রতি বিল্ডিং ও অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। সেখানে ওই সম্পত্তির যাবতীয় নথি এবং অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বর্তমান নির্মাণের অসংগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রশাসনিক তৎপরতা: রাজনৈতিক কি না?
পুরসভার অন্দরের খবর অনুযায়ী, আগামী ৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা পড়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি তদন্তে বেআইনি নির্মাণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী সেই অংশ ভাঙার নির্দেশ জারি করা হবে। প্রশাসনের একটি অংশের দাবি, আদালতের নির্দেশ পালন করা পুরনিগমের আইনি বাধ্যবাধকতা। এতে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।

ভবিষ্যতের পদক্ষেপ:
রিপোর্ট পাওয়ার পর পুরনিগম যদি ভাঙার নির্দেশ জারি করে, তবে তা রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় তোলপাড় সৃষ্টি করতে পারে। এখন সবার নজর ৫ দিনের মাথায় পুরনিগমের দাখিল করা রিপোর্টের দিকে।