পেট্রোলের দাম নিয়ে বড় স্বস্তি! ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে শুল্ক ছাড় কেন্দ্রের, কমবে খরচ?

বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতার আবহে ভারতবাসীর জন্য এল সুখবর। লাগামহীন পেট্রোল-ডিজেলের দামের ঝক্কি কমাতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের ওপর থেকে আবগারি শুল্ক তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র, যা মধ্যবিত্তের পকেটে বড়সড় স্বস্তি দেবে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের।
কী পরিবর্তন আসছে?
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, এখন থেকে ২২ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানো পেট্রোলের উপর আর কোনও আবগারি শুল্ক দিতে হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে E22, E25, E27 এবং E30—এই বিশেষ গ্রেডের জ্বালানিগুলোতেও মিলবে কর ছাড়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী ‘ই-৮৫’ জ্বালানির উদ্বোধন করেছেন, যা পেট্রোল নির্ভরতা কমিয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।
ইথানলের কেন এই গুরুত্ব?
বর্তমানে ভারতকে তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৭ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। কেন্দ্রের মতে, ইথানলের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে:
-
আমদানি নির্ভরতা কমবে: বিদেশ থেকে তেল কেনার চাপ হ্রাস পাবে।
-
অর্থ সাশ্রয়: বিদেশে চলে যাওয়া অর্থ দেশেই থাকবে, যা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
-
কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতি: ইথানল উৎপাদন দেশীয় কৃষিব্যবস্থার সাথে যুক্ত। ফলে গ্রামীণ যুবক ও কৃষকরা লাভবান হবেন।
-
পরিবেশবান্ধব: সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি দূষণ অনেক কমায়।
লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভারত
২০১৮ সালের জাতীয় জৈব জ্বালানি নীতির পর ২০২২ সালে এতে বড় সংশোধন আনা হয়। ২০৩০ সালের বদলে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের মধ্যেই ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্র। সরকারি তথ্য বলছে, ভারত ইতিমধ্যেই এই পথে অনেকটা এগিয়েছে:
| অর্থবর্ষ | ইথানল মিশ্রণের হার |
| ২০২২-২৩ | ১২.০৬% |
| ২০২৩-২৪ | ১৪.৬০% |
| ২০২৪-২৫ (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) | ১৭.৯৮% |
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করির মতে, ইথানল কেবল একটি জ্বালানি নয়, এটি ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে। সরকারের এই নতুন শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত আগামী দিনে উচ্চমাত্রার ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহারে সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।