নির্বাচনে না লড়েই দু’বার মন্ত্রী! উপেন্দ্র খুশওয়ার ছেলের মন্ত্রিত্ব নিয়ে বড় বিপাকে বিহার সরকার?

বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য নন, এমনকি কোনো নির্বাচনেও লড়েননি। অথচ বিহারের নীতীশ কুমার এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর মন্ত্রিসভায় পরপর দু’বার পঞ্চায়েত মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার (RLM) প্রধান উপেন্দ্র খুশওয়ার ছেলে দীপক প্রকাশ। এই নিয়োগকে ঘিরেই এখন দানা বেঁধেছে প্রবল বিতর্ক। সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর মন্ত্রিত্ব খারিজের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সিং।
বিতর্কের মূলে কী? অভিযোগকারী রাকেশ সিং-এর মতে, কোনো ব্যক্তি বিধানসভার সদস্য না হয়ে মন্ত্রী হতে পারেন, তবে তার নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। সংবিধানের ১৬৪(৪) নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অ-বিধায়ক মন্ত্রী হলে তাঁকে ছয় মাসের মধ্যে বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসতে হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট:
-
প্রথম নিয়োগ: গত বছর ২০ নভেম্বর নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায় প্রথমবার মন্ত্রী হন দীপক প্রকাশ। নিয়মানুযায়ী, তাঁকে ১৯ মে-র মধ্যে সদস্যপদ অর্জন করার কথা ছিল।
-
দ্বিতীয় নিয়োগ: গত ১৫ এপ্রিল নীতীশ কুমার ইস্তফা দিলে মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়। পরবর্তীতে সম্রাট চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং ৭ মে নতুন মন্ত্রিসভায় দীপক প্রকাশকে ফের পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী করা হয়।
-
মূল অভিযোগ: সমাজকর্মীর দাবি, প্রথম নিয়োগের ছয় মাসের সময়সীমা ১৯ মে শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২২ দিন মন্ত্রী পদে না থাকলেও, দুই দফায় তাঁকে মন্ত্রী করা সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
কেন এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ? আবেদনকারীর দাবি, দীপক প্রকাশ যে দলের প্রতিনিধি (RLM), সেই দল বিহার বিধানসভা বা বিধান পরিষদের কোনো সদস্যেরই প্রতিনিধিত্ব করে না। কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি না হয়েও একজন ব্যক্তিকে বারবার মন্ত্রী করা সাংবিধানিক নৈতিকতা এবং নিয়মের পরিপন্থী।
বর্তমানে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। দেশের শীর্ষ আদালত এই ইস্যুতে কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিহারের রাজনৈতিক মহল। এই মামলার ফলাফল আগামী দিনে ভারতীয় রাজনীতিতে মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে এক বড় নজির তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।