ইরান-মার্কিন সরাসরি যুদ্ধ: অ্যাপাচি ভূপাতিত হওয়ার পর ২১টি ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য!

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ৯ জুন হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর জবান দিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায়।
এই মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান তাদের পূর্ণ শক্তি প্রদর্শন করে বিশাল আকারের পাল্টা আঘাত হানে। আইআরজিসি (IRGC) দাবি করেছে, তারা জর্ডান ও কুয়েতসহ পুরো অঞ্চলের ২১টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে চালানো এই হামলায় মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ও কমান্ড সেন্টার ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও ইরান দক্ষিণ ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ইরানকে এই আচরণের চরম মূল্য দিতে হবে। অপরদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিদেশি শক্তিগুলো তাদের দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে তারা দ্বিধা করবে না। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সংঘাতকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের’ দিকে মোড় নেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তার সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এখন এতটাই নাজুক যে যেকোনো মুহূর্তে বড় কোনো সংঘাতের আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।