তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে কি ঢল? ইশা খান চৌধুরীর পোস্ট ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা!

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা অস্থিরতার মধ্যেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল প্রদেশ কংগ্রেস নেতা তথা মালদা জেলার সভাপতি ইশা খান চৌধুরীর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে ঘিরে। মঙ্গলবার তাঁর এই বার্তা কি তবে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা নেতা-নেত্রীদের কংগ্রেসে স্বাগত জানানোর ইঙ্গিত? রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কী লিখেছেন ইশা? নিজের ‘এক্স’ (X) হ্যান্ডেলে ইশা খান চৌধুরী সরাসরি তৃণমূল সাংসদদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে লিখেছেন, “আপনারা যদি আদর্শগত কারণে দল ছাড়তে চান, তবে আমার আবেদন—অন্তত কোনো ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গেই থাকুন। সকল ভারতীয়দের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখুন।” এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি যেন পরোক্ষভাবে দলত্যাগীদের কংগ্রেসে আসার রাস্তাই প্রশস্ত করতে চেয়েছেন।
সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ ও ‘শর্তের’ বেড়াজাল ইশা খান চৌধুরী স্বীকার করেছেন যে, দিল্লিতে সংসদীয় কাজকর্মের সুবাদে অনেক তৃণমূল সাংসদের সঙ্গেই তাঁর ব্যক্তিগত আলাপ-আলোচনা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “তৃণমূলের নীতি খারাপ হলেও সেই দলের সবাই খারাপ নন। অনেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী, যা বর্তমান ভারতে অত্যন্ত জরুরি।”
তবে দলবদলের ক্ষেত্রে কংগ্রেস যে হুট করে সবার জন্য দরজা খুলে দিচ্ছে না, তাও স্পষ্ট করেছেন তিনি। ইশার কথায়, “ভোটের পর থেকেই অনেক জনপ্রতিনিধি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু আমরা চাই না সুযোগসন্ধানী বা ‘বেনোজল’ ঢুকে দল কালিমালিপ্ত হোক। তাই কংগ্রেসে যোগদানের ক্ষেত্রে আমরা কিছু নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছি।”
বিজেপি ও তৃণমূলের অস্বস্তি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা তৃণমূলের কোনো নেতা বা কর্মীকে দলে নেবে না। বামপন্থীদের সাথেও তৃণমূল নেতাদের তালমিলানো কঠিন। এই পরিস্থিতিতে দলত্যাগী তৃণমূল নেতা-কর্মীদের জন্য কংগ্রেসই এখন একমাত্র গ্রহণযোগ্য গন্তব্য হয়ে উঠছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক কাউন্সিলরের কথায়, “কংগ্রেসের শর্তগুলো কিছুটা কড়া মনে হলেও, অন্য দলের তুলনায় এটিই আমাদের জন্য তুলনামূলক ভালো প্ল্যাটফর্ম।”
আসল শক্তি ‘মানুষ’ দলবদল নিয়ে জল্পনা চললেও, ইশা খান চৌধুরীর দাবি, কোনো নির্দিষ্ট নেতা বা নেত্রী দলের শক্তি নন। তিনি বলেন, “নেতা আসে, নেতা যায়—দলের আসল শক্তি হলো মানুষ। মানুষই পরিবর্তনের পূজারি। আমরা চাই দলবদলের মাধ্যমে পঞ্চায়েতগুলোতে আমাদের শক্তি বাড়লে মানুষের আরও বেশি করে সেবা করা যাবে।”