তৃণমূলের অন্দরে মহাবিদ্রোহ! ১৯ সাংসদের এনডিএ-মুখী হওয়ার খবরে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল

লোকসভায় প্রবল সংকটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। দলত্যাগ বিরোধী আইনকে পাশ কাটিয়ে তৃণমূলের ১৯ জন সাংসদ সরাসরি জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএ-তে যোগদানের তোড়জোড় শুরু করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এই পদক্ষেপে তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তালিকায় কারা? সূত্রের খবর, লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান শক্তি ২৮। আইন অনুযায়ী, দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকে বাঁচতে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১৯ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বিদ্রোহীদের দাবি, সেই সংখ্যা তারা নিশ্চিত করেছেন। এই তালিকায় সায়নী ঘোষ, শত্রুঘ্ন সিনহা, শতাব্দী রায় ও রচনা ব্যানার্জির মতো হেভিওয়েট নাম থাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন কোচবিহারের জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান, মুর্শিদাবাদের আবু তাহির খান, ব্যারাকপুরের পার্থ ভৌমিক, মথুরাপুরের বাপি হালদার, কলকাতা দক্ষিণের মালা রায় ও ঘাটালের দীপক অধিকারীর মতো একাধিক পরিচিত মুখ।
কেন এই বিদ্রোহ? বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগ, দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনেক সাংসদই গুরুত্ব পাচ্ছিলেন না। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আর নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা থেকেই এই চরম সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আইনি মারপ্যাঁচ ও এনডিএ-র অঙ্ক সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, কোনো দল থেকে বেরিয়ে অন্য জোটে যোগ দিতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। এই অঙ্ক কষেই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইতিমধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যদি স্পিকার এই গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেন, তবে তৃণমূলের এই বিধায়ক-সাংসদদের আর অযোগ্য ঘোষণার ভয় থাকবে না।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি। তবে রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় এবং অসমের সুস্মিতা দেবের পর লোকসভার এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মমতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।