বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগেই রণক্ষেত্র মেক্সিকো! স্টেডিয়ামের পথে হাজারো শিক্ষকের বিক্ষোভ

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন মেতে ওঠার কথা সারা বিশ্ব, ঠিক তখনই মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের বাইরের দৃশ্য এক অন্য উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াইয়ের ঠিক আগে, স্টেডিয়ামের দিকে যাওয়ার প্রধান রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখালেন হাজার হাজার ক্ষুব্ধ শিক্ষক।

বিক্ষোভের কারণ ও পরিস্থিতি: মঙ্গলবার রাজধানী মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের সামনে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি শিক্ষক জড়ো হন। ‘সি.এন.টি.ই’ (CNTE) নামক শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্বে এই আন্দোলন মূলত বেতন বৃদ্ধি এবং পেনশন আইন বাতিলের দাবিতে চলছে। গত এক সপ্তাহ ধরেই শহরজুড়ে তারা এই আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে দিয়েছেন। স্টেডিয়ামের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ এবং কংক্রিটের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথ আটকানো হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর বিক্ষোভকারীরা ফিরে গেলেও, স্টেডিয়াম এলাকায় উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি।

সরকারের প্রতিক্রিয়া: মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবম এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার একটি ‘উস্কানি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার আলোচনার পথই বেছে নিয়েছে। কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ না করে শান্তিপূর্ণভাবে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করাই এখন কর্তৃপক্ষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

উদ্বোধনের দিনে বড় বিপদের আশঙ্কা! উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ সরকারের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। শিক্ষক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার অর্থাৎ উদ্বোধনের দিন তারা আরও বড় আকারের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। শুধু শিক্ষকই নন, মেক্সিকোর বিভিন্ন প্রান্তে ‘নিখোঁজ’ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও এই মিছিলে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এই ফুটবল ইভেন্ট আয়োজনে মেক্সিকো ইতিমধ্যে বিভিন্ন পরিকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত। তার ওপর এই রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সংকটের মুখে দাঁড় করাল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার বিষয়, সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে মেক্সিকো কতটা সুষ্ঠুভাবে এই বিশাল মহোৎসব আয়োজন করতে পারে।