মমতার পর রাহুল-অভিষেক বৈঠক: তৃণমূল কি মিশে যাচ্ছে কংগ্রেসে? তুঙ্গে জল্পনা!

পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন তৃণমূলে ভাঙনের গুঞ্জন বাড়ছে, তেমনই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। তার ঠিক পরদিন, বুধবার সকালে দিল্লির ১০ জনপথে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, দু’জনের মধ্যে প্রায় ৯০ মিনিট রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে।

বৈঠকের নেপথ্যে কী? পিটিআই সূত্রের খবর, মূলত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে শক্তিশালী করা এবং বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে আঞ্চলিক দলগুলোকে কীভাবে এক ছাতার নিচে আনা যায়, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর আটকে রয়েছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভাঙন নিয়েও দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে।

জল্পনার কেন্দ্রে ‘মহা-মিলন’? রাজধানীর রাজনৈতিক আঙিনায় এখন জোর জল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তবে তৃণমূলকে পুরোপুরি কংগ্রেসের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটছেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, শীর্ষস্তরের এই বৈঠকে মমতা ও অভিষেকের কংগ্রেসে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দিল্লি থেকে ভেসে আসা খবর অনুযায়ী, কংগ্রেসের তরফে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় স্তরে বড় কোনো পদে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবে সাম্প্রতিক এই দুই বৈঠক জাতীয় রাজনীতির সমীকরণকে যে বড়সড় পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।