আইফোন কি যৌন জীবনে আড়ি পাতছে? স্মার্টফোনের নেশায় বদলে যাচ্ছে দাম্পত্য ও সমাজ!

প্রযুক্তির উৎকর্ষে আমাদের জীবন এখন মুঠোবন্দি। কিন্তু স্মার্টফোন, বিশেষ করে আইফোনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে বিশ্বজুড়ে জন্মহার হ্রাসের এক রহস্যময় যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে, মানুষ যত বেশি ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সময় কাটাচ্ছে, বাস্তব জীবনে ততই একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
গবেষণার মূল দিকগুলো:
আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ’ (NBER)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার ২২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গবেষকদের দাবি:
নেটওয়ার্ক ও জন্মহার: গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব এলাকায় আইফোনের নেটওয়ার্ক কভারেজ সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ছিল, সেখানে কিশোরী মাতৃত্বের হার ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
ভার্চুয়াল আসক্তি: ঘুমানোর আগে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সাথে সময় কাটানোর বদলে ফোনে রিলস বা ভিডিও দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন। ফলে দাম্পত্য জীবনে ঘনিষ্ঠতা কমছে এবং যৌন সম্পর্কের হার নিম্নমুখী।
সামাজিক দূরত্বের পরিবর্তন: ২০০৩ সালে মানুষ দিনে গড়ে ৬৮ মিনিট বন্ধুদের সাথে সরাসরি সময় কাটাতেন, যা ২০১৯ সালে মাত্র ৩৮ মিনিটে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ডিজিটাল স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময় ৩৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন এমন ঘটছে?
গবেষকরা স্মার্টফোনের প্রভাবে আচরণের পরিবর্তনের কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন:
১. ভার্চুয়াল বিনোদন: স্মার্টফোনে প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট দেখার প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
২. সহজ তথ্য: জন্মনিয়ন্ত্রণ ও গর্ভপাত সংক্রান্ত তথ্যের সহজলভ্যতার ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ঝুঁকি কমাতে তরুণরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক।
৩. বাস্তব সম্পর্কের অভাব: বন্ধু-বান্ধব বা সঙ্গীর সঙ্গে মুখোমুখি আলাপচারিতার চেয়ে মানুষ এখন ভার্চুয়াল চ্যাট বা সোশ্যাল মিডিয়াতেই বেশি তৃপ্ত।
উপসংহার
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটির গবেষকদের মতে, স্মার্টফোনই যে জন্মহার হ্রাসের একমাত্র কারণ—তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন আমাদের সামাজিক আচরণ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের বুনন বদলে দিচ্ছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অর্থনৈতিক অবস্থা—সবকিছুকে ছাপিয়ে ডিজিটাল আসক্তি বিশ্বজুড়ে এক নতুন জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।