তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে সুস্মিতা দেব? মমতার পাশ থেকে সরছেন একের পর এক বিশ্বস্ত মুখ!

রাজ্য রাজনীতিতে এখন কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য ‘অস্তিত্বের সংকট’ দেখা দিয়েছে। সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সুস্মিতা দেব। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক মহলে জোর খবর, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদান করতে চলেছেন এবং অসমে লোকসভা উপনির্বাচনে পদ্ম প্রতীকে লড়তে পারেন।
মমতা-শিবিরে ভাঙনের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিশ্বস্ত’ হিসেবে পরিচিত নেতা-নেত্রীরা একে একে দল ছাড়ায় তৃণমূলের অন্দরমহলে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে:
-
লোকসভা: কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন তৃণমূল সাংসদ ইতিমধ্যেই এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক সেই জল্পনায় সিলমোহর দিয়েছে।
-
রাজ্যসভা: সুখেন্দু শেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবের ইস্তফায় রাজ্যসভায় তৃণমূলের শক্তি ১৩ থেকে কমে ১১-তে নেমেছে। জল্পনা রয়েছে, যুব তৃণমূল সভানেত্রী সায়নী ঘোষও এই বিদ্রোহী সাংসদদের দলে নাম লিখিয়েছেন।
-
বিজেপির কৌশল: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে বিধানসভায় শুরু হওয়া এই ভাঙন এখন সংসদে গিয়ে আছড়ে পড়েছে। রাজ্যসভার আসনগুলো খালি হওয়ার অর্থ হলো, সেখানে পুনরায় নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিজেপি নিজের শক্তি আরও বাড়ানোর সুযোগ পাবে।
কে এই সুস্মিতা দেব?
সিলচরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব ২০২১ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে দলের জাতীয় মুখপাত্র ও রাজ্যসভার টিকিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন। অসম ও ত্রিপুরার সাংগঠনিক দায়িত্বও তাঁর কাঁধে তুলে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সুস্মিতার দলত্যাগ এবং বিজেপি-তে যাওয়ার সম্ভাবনা তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে?
তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ও শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছেন অনেক সাংসদ। একদিকে লোকসভার ২০ জন বিদ্রোহীর এনডিএ-তে যোগদান, অন্যদিকে রাজ্যসভার আসন হাতছাড়া হওয়া—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ‘তাসের ঘর’ যে পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে, তা স্পষ্ট।