সায়নী ঘোষও নাম লেখালেন বিদ্রোহী শিবিরে? জেনেনিন কেন এই জল্পনা?

সুখেন্দু শেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এল আরও বড় দুঃসংবাদ। এবার দলের তরুণ তুর্কি, যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী এবং যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষকে ঘিরে তৈরি হলো তীব্র জল্পনা। সূত্রের খবর, এনডিএ-তে যোগদানের ইচ্ছাপ্রকাশ করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাতে স্বাক্ষরকারী ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের তালিকায় নাম রয়েছে সায়নীর।
কেন এই জল্পনা?
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর সায়নী ঘোষকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আস্থাভাজন’ এবং অনেকেই ‘মমতার রেপ্লিকা’ হিসেবে অভিহিত করতেন। সাদা শাড়ি ও হাওয়াই চটি পরিহিত সায়নীকে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা করা নতুন দলীয় কমিটিতেও তিনি যুব তৃণমূলের সভানেত্রীর পদটি বজায় রেখেছিলেন। তবে সোমবারে বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠকের পর থেকেই সায়নীকে ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়, যা বুধবারের এই খবরে আরও ঘনীভূত হলো।
সায়নীর রাজনৈতিক উত্থান ও বিতর্ক
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে সায়নী ঘোষের সাংগঠনিক গুরুত্ব দলে ক্রমাগত বেড়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী অতীতে সমাজমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্টের জেরে নানা সমস্যার মুখে পড়লেও, তৃণমূল বরাবরই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেই ‘বিশ্বস্ত’ সৈনিকই এখন দলের বিরুদ্ধে গিয়ে এনডিএ শিবিরের পথ বেছে নিচ্ছেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
তৃণমূলের অস্তিত্বের সংকট?
এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজ্যসভার সাংসদদের ইস্তফা এবং এখন লোকসভার ২০ জন সাংসদের এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ—এই ঘটনা তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় ফাটল ধরিয়েছে। সায়নী ঘোষের মতো মুখ যদি বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখান, তবে তা তৃণমূলের জন্য কেবল বড় ধাক্কাই নয়, বরং অস্তিত্বের সংকট বলেও মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।