মিউচুয়াল ফান্ডে বড় ধস! মে মাসে ইক্যুইটিতে ৪০% বিনিয়োগ কমল কেন?

ভারতীয় মিউচুয়াল ফান্ড বাজারের জন্য মে মাস ছিল বেশ মন্থর। অ্যাসোসিয়েশন অফ মিউচুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়া (AMFI)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসে ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এপ্রিল মাসে রেকর্ড ৩৮,৪৪০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হলেও, মে মাসে তা কমে দাঁড়ায় ২২,৯০৭ কোটি টাকায়।
কোথায় বিনিয়োগ কমল?
বাজারের বিভিন্ন বিভাগে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ভাটা স্পষ্ট:
ফ্লেক্সি-ক্যাপ ফান্ড: মে মাসে এটি বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ থাকলেও, বিনিয়োগের পরিমাণ এপ্রিলের ১০,১৪৭ কোটি থেকে কমে ৫,১৭৫ কোটি টাকায় নেমেছে।
স্মল ও মিড-ক্যাপ: স্মল-ক্যাপ ফাণ্ডে ২৮% এবং মিড-ক্যাপ ফাণ্ডে ৩৩% বিনিয়োগ কমেছে।
লার্জ-ক্যাপ ফান্ড: এই বিভাগে বিনিয়োগ ৩৭% হ্রাস পেয়ে ১,৫৯২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ট্যাক্স-সেভিং ফান্ড: ELSS ও ডিভিডেন্ড-ইল্ড ফান্ড থেকেও প্রচুর মূলধন তুলে নিয়েছেন লগ্নিকারীরা।
ডেট ফান্ডে বড় ধাক্কা
মে মাসে ফিক্সড ইনকাম বা ডেট মিউচুয়াল ফান্ড থেকে ৯৬,৯৪৮ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে, যা এপ্রিলের ২.৪৭ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল অন্তঃপ্রবাহের ঠিক বিপরীত। বিশেষ করে লিকুইড ফান্ড, মানি মার্কেট ফান্ড এবং ওভারনাইট ফান্ড থেকে বড় অঙ্কের মূলধন বহির্গমন হয়েছে। ক্রেডিট রিস্ক ফান্ডই একমাত্র বিভাগ, যেখানে ৪৯.৪৬ কোটি টাকার সামান্য অন্তঃপ্রবাহ দেখা গেছে।
হাইব্রিড ও প্যাসিভ ফান্ডে মন্দা
হাইব্রিড স্কিমের প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। ৪৯ শতাংশ পতনের পর এই বিভাগে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১০,৫৬০ কোটি টাকায়। এছাড়া প্যাসিভ ফান্ড এবং গোল্ড ইটিএফ-এর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। গোল্ড ইটিএফ থেকে ৭২৫ কোটি টাকা এবং ইনডেক্স ফান্ড থেকে ৯৪৩ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
বাজারের সার্বিক অবস্থা
সামগ্রিক বিচারে, মে মাসে ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ডগুলো থেকে মোট ৬২,৮৪৮ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এপ্রিলে ৮১.৭১ লক্ষ কোটি টাকা থাকা মোট ব্যবস্থাপনার সম্পদ (AUM) সামান্য কমে ৮১.৩৮ লক্ষ কোটি টাকায় এসে ঠেকেছে। যদিও এই অস্থিরতার মধ্যেও ১৩টি নতুন ফান্ড (NFO) চালু হয়েছে, যা ৪৭১ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে ‘মতিলাল ওসওয়াল কন্ট্রা ফান্ড’ একাই ২৬৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারের এই সাময়িক ধস বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের হার ২০% বৃদ্ধি পাওয়ায়, বাজারের ওপর আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেননি লগ্নিকারীরা।