লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বিশাল জালিয়াতি! ৩ লক্ষ পুরুষ হাতিয়েছেন মহিলাদের টাকা, বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের নাম করে সরকারি কোষাগার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা লুঠের অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নবান্ন থেকে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্যের প্রায় ৩ লক্ষ পুরুষ নিয়ম ভেঙে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা ভোগ করছিলেন, যা রীতিমতো বিস্ময়কর।

দুর্নীতির ফিরিস্তি:
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, শুধুমাত্র জঙ্গীপুর ব্লকেই প্রায় সাড়ে চার হাজার পুরুষ বেআইনিভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলেছেন। প্রকল্পের শর্তানুযায়ী এটি সম্পূর্ণ মহিলাদের জন্য হলেও, পুরুষের নামে কীভাবে এই টাকা বরাদ্দ হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তদন্ত।

শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, বিধবা ভাতা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই ধরণের বেনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, পুরুষরাও নাকি দীর্ঘ সময় ধরে বিধবা ভাতার টাকা নিচ্ছিলেন। এই বিষয়টি সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

প্রশাসনের কড়া নজর:
এই জালিয়াতিকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যারা এই ধরনের দুর্নীতি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্লক স্তরে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ইতিমধ্যেই অযোগ্য ও ভুয়া উপভোক্তাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ডেটাবেস যাচাই বা ভেরিফিকেশনে কোথাও বড়সড় খামতি থেকে গিয়েছিল, যার সুযোগ নিয়েছেন কিছু অসাধু মানুষ। এখন দেখার, এই দুর্নীতির মূলে কারা রয়েছেন এবং সরকার উদ্ধার হওয়া টাকা কীভাবে পুনরুদ্ধার করে।