TMC-সাংসদদের ৯০ শতাংশই বিদ্রোহী? এবার বিস্ফোরক দাবি এল সামনে

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের অন্দরে এবার প্রকাশ্যে ভাঙন? সোমবার দিল্লির রাজনীতিতে এক বড়সড় চমক দিয়ে প্রকাশ্যে এল তৃণমূল সাংসদদের বিদ্রোহের ঘটনা। সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লোকসভায় আলাদা গোষ্ঠী তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন এক ডজনেরও বেশি বিদ্রোহী সাংসদ।

ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে গোপন বৈঠক সোমবার সকালে দিল্লির ৯, মতিলাল নেহরু মার্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূলের একাধিক সাংসদকে দেখা যায়। সূত্রের দাবি, সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। সেই বৈঠকের পরই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর অনুযায়ী, ঘাসফুল শিবিরের লোকসভা সাংসদদের প্রায় ৯০ শতাংশই এই বিদ্রোহে শামিল হয়েছেন এবং তৃণমূল ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও বেশি সমর্থন তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মহলের।

স্পিকারের কাছে বড় আবেদন এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সূত্রের খবর, আজই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে অন্তত ২০ জন তৃণমূল সাংসদ চিঠি জমা দেবেন। যেখানে লোকসভার অন্দরে তাঁদের বসার জায়গা আলাদা করার আর্জি জানানো হবে। অর্থাৎ, সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত।

মুখ খুললেন সাংসদ শর্মিলা সরকার এই বিদ্রোহের আঁচ পাওয়া গিয়েছিল আগেই। বর্ধমান পূর্বের তৃণমূল সাংসদ শর্মিলা সরকার সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বাংলার উন্নয়নের স্বার্থেই আমাদের এই পদক্ষেপ। দলের অন্দরে যা কিছু ঘটছিল তা আমাদের পছন্দ ছিল না। শীর্ষ নেতৃত্বকে এ নিয়ে বারবার জানিয়েও কাজ হয়নি, তাই বাধ্য হয়েই উন্নয়নের লক্ষ্যে আলাদা হওয়ার পথ বেছে নিতে হচ্ছে।”

তৃণমূলের সংসদীয় দলের এই নজিরবিহীন বিদ্রোহ আসন্ন অধিবেশনে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।