ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা মানতে নারাজ তৃণমূল! এবার সরাসরি হাইকোর্টে মমতার দল

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলো। সোমবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই: তৃণমূলের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তৃণমূলের অভিযোগ, দলের নিজস্ব আবেদনকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেই বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ও বেআইনি আখ্যা দিয়ে তৃণমূল এর আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। গত ৫ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে আয়োজিত বৈঠকে এই মামলার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কেন এই মামলা জরুরি? আগামী ১৮ জুন থেকে বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। হাতে সময় খুবই কম, তাই তৃণমূলের আইনি টিম চাইছে দ্রুত শুনানির মাধ্যমে স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ আনতে। মামলাকারী আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এই মামলার শুনানির জন্য আগামী ১১ জুন দিন ধার্য করেছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই মামলায় তারা বিধানসভার স্পিকারকেও পার্টি করতে চাইছে।

রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা: তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলটির দাবি, যে পদ্ধতিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই পদে বসানো হয়েছে, তা বিধানসভার প্রচলিত রীতির পরিপন্থী। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভায় যখন বড়সড় ভাঙন চলছে, তখন বিরোধী দলনেতার পদটি তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়াটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড়সড় ধাক্কা। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১১ জুন হাইকোর্ট এই বিষয়ে কী রায় দেয়।