মমতার হাতছাড়া তৃণমূল! এনডিএ-তে যোগ দিচ্ছেন ২০ সাংসদ, দিল্লিতে চূড়ান্ত নাটক

রাজনৈতিক মহলে এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল রাজধানী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই খোদ দিল্লিতে জোড়াফুল শিবিরে বড়সড় ভাঙন। লোকসভার ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই বিদ্রোহী হয়ে দলনেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। এখানেই শেষ নয়, তাঁরা সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA)-তে যোগ দেওয়ার ও সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
দলের অন্দরে বড় বিদ্রোহ: তৃণমূলের এই বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন দলের দুই বর্ষীয়ান নেত্রী— বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। এই দলবদলের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সোমবার দুপুরে বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। সূত্রের খবর, এই তালিকায় প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক, জুন মালিয়া থেকে শুরু করে ইউসুফ পাঠান ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হাই-প্রোফাইল সাংসদদের নামও রয়েছে।
আইনি মারপ্যাঁচে মমতা: তৃণমূল নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো— দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) এড়াতে মোট সাংসদ সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনের প্রয়োজন হয়। লোকসভায় দলের বর্তমান শক্তি অনুযায়ী, ২০ জন সাংসদ একসাথে বিদ্রোহী হওয়ায় সেই আইনি বাধানিষেধ অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন তাঁরা। পাশাপাশি, সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজেকে লোকসভায় তৃণমূলের ‘চিফ হুইপ’ হিসেবে দাবি করে স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন, যা মমতার আইনি লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
মমতার অস্তিত্ব সঙ্কট: রাজ্য বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন বিধায়কের বিদ্রোহের পর, লোকসভাতেও এই ভাঙন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অস্তিত্বের ওপর বিশাল বড় আঘাত। ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের মিটিংয়ে যোগ দিতে দিল্লিতে এসে তৃণমূল সুপ্রিমো যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, তা রাজনৈতিক মহলের ধারণার অতীত ছিল। একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেত্রীর নেতৃত্বাধীন দল আজ জাতীয় রাজনীতিতে কার্যত কোণঠাসা।
রাজনৈতিক সমীকরণ: দিল্লির এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ অবশেষে বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে এসেছে। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে দলের যে ভাঙন শুরু হয়েছিল, তা এখন জাতীয় স্তরে তৃণমূলের শক্তিবৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মমতার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারেন।