১৯টি বিদেশি সংসদে মোদীর ভাষণ! ভারতের বিশ্বমঞ্চে উত্তরণের আসল ইতিহাস কী?

কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন বিদেশি কোনো সংসদের মেঝেতে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন, তা কেবল প্রোটোকল নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এক অনন্য মাইলফলক। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু তাঁর কার্যকালে তিনটি বিদেশি সংসদে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই পথ ধরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রেকর্ড ১৯টি বিদেশি সংসদে ভারতের কণ্ঠস্বর পৌঁছে দিয়েছেন।
নেহরু বনাম মোদী: কূটনীতির বিবর্তন ১৯৪৯ সালে নেহরু যখন প্রথম মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ভারত-মার্কিন সম্পর্কের সূচনাপর্ব। সেই প্রেক্ষাপট ছিল অনেকটাই সতর্কতামূলক। অন্যদিকে, মোদীর কূটনৈতিক সফর অনেকটা আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী। ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য থেকে শুরু করে আফ্রিকা, ক্যারিবিয়ান ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আইনসভায় মোদী তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
মোদীর কূটনৈতিক সাফল্যের খতিয়ান:
-
মার্কিন কংগ্রেসের নজির: ২০২৩ সালে মোদী প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দুবার ভাষণ দেওয়ার বিরল সম্মান অর্জন করেন। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পর তিনিই বিশ্বের দ্বিতীয় নেতা, যিনি এই সম্মান পেয়েছেন।
-
বিশাল ব্যাপ্তি: ভুটান, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, মরিশাস, শ্রীলঙ্কা, মঙ্গোলিয়া, যুক্তরাজ্য, আফগানিস্তান—তালিকাটি দীর্ঘ। ২০২৬ সালে ইজরায়েলের নেসেটে ভাষণ দেওয়ার সময় তাঁকে দেশটির সর্বোচ্চ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
-
অর্থনৈতিক উত্তরণ: মোদীর কূটনৈতিক কৌশলের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি। ২০০৯ সালে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১০৭ বিলিয়ন ডলারে। ভারতের অর্থনীতি আজ ১০ম স্থান থেকে ৫ম বৃহত্তম অবস্থানে উন্নীত হয়েছে।
কেন এই ভাষণগুলো গুরুত্বপূর্ণ? মোদী যখন কোনো বিদেশি সংসদে ভাষণ দেন, তখন তিনি কেবল ভারতের সরকারের প্রতিনিধি নন, বরং দেড়শো কোটি ভারতবাসীর প্রত্যাশা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধি হিসেবে হাজির হন। তাঁর এই ভাষণগুলো প্রতিবেশী দেশ থেকে শুরু করে প্রধান পশ্চিমা শক্তিগুলোর কাছে ভারতের পরিবর্তিত অবস্থান ও আত্মবিশ্বাসের বার্তা পৌঁছে দেয়।
২০২৬ সালের ১০ই জুন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছেন। তাঁর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় বিদেশি সংসদের এই ১৯টি ভাষণ ভারতের ক্রমবর্ধমান ‘সফট পাওয়ার’ বা কূটনৈতিক প্রভাবের এক অনন্য দলিল হয়ে রইল।