ট্রাম্পের নির্দেশ অমান্য! ইরানের বুকে বিধ্বংসী বিমান হামলা ইজরায়েলের, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের ইরানের ওপর সামরিক আক্রমণ শানাল ইজরায়েল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিতে তেহরান, ইসফাহান, কারাজ এবং তাবরিজসহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি বায়ুসেনা। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ
ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা আইআরএনএ (IRNA) সূত্রে খবর, রাজধানী তেহরানে অন্তত দু’টি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। হামলার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন আকাশসীমা অবিলম্বে বন্ধ করে দেয় ইরান প্রশাসন। গত এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে সম্প্রতি ইরান সরাসরি ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তারই পাল্টা জবাব হিসেবে এদিন ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে ইজরায়েল।

নেতানিয়াহুর ‘বেপরোয়া’ পদক্ষেপে বিপাকে ট্রাম্প
গত কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা গিয়েছে, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোনে ট্রাম্প স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেন ইরানে কোনো পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়। বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ট্রাম্পের সেই কূটনৈতিক পরামর্শ অমান্য করেই নেতানিয়াহুর এই আক্রমণ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এতে আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের পাশাপাশি আমেরিকা-ইজরায়েল কূটনৈতিক আলোচনাও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

আতঙ্কে জনজীবন
ইরানের হামলার মুখে ইজরায়েলের বিভিন্ন প্রান্তে সাইরেন বেজে ওঠে। প্রাণ বাঁচাতে লক্ষাধিক মানুষ মাটির নিচের আশ্রয়ে (Bunker) ছুটে যান। ইজরায়েলি সেনার দাবি, তিন দফায় ছোড়া ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। তবে পালটা ইজরায়েলের এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম উত্তেজনা। এই সংঘাত বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম ও ভূ-রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাখছে বিশ্ব।