বিমানের টিকিটের দাম কি এবার কমবে? ১০,০০০ কোটির বিশেষ প্যাকেজ আনল সরকার!

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দামের জেরে যখন বিমান সংস্থাগুলো চাপের মুখে, ঠিক তখনই বড়সড় ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে বিমান সংস্থাগুলোকে রক্ষা করতে সরকার ১০,০০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ সহায়তা প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
এই প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য কী? অনেকের মনেই প্রশ্ন—এই সহায়তার ফলে কি বিমানের টিকিটের দাম কমবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য টিকিটের ভাড়া সরাসরি কমানো নয়, বরং ভাড়ার ‘আকস্মিক ও অস্বাভাবিক’ বৃদ্ধি রোধ করা। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে যে অস্থিরতা চলছে, তার ফলে যে কোনো সময় টিকিটের দাম হু হু করে বেড়ে যেতে পারে। এই সরকারি প্রকল্প সেই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করবে, যাতে জ্বালানি খরচ বাড়লেও বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেয়।
কীভাবে কাজ করবে এই নতুন স্কিম? এই পরিকল্পনার অধীনে বিমান সংস্থাগুলোকে একটি ‘বেঞ্চমার্ক’ বা নির্দিষ্ট দরে জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে।
-
ভর্তুকি ও দাম: বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি লিটার এটিএফ-এর দাম প্রায় ১৪২ টাকা হলেও, প্রকল্পের আওতায় সেটি অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য ৮৬.৩২ টাকা এবং আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ১০৪.৪৯ টাকা প্রতি লিটার দরে সরবরাহ করা হবে।
-
রাজ্যভিত্তিক ফারাক: বিমানবন্দরের কর ও অন্যান্য ফি যোগ করার পর দিল্লিতে এর দাম হবে প্রায় ১১৫ টাকা, মুম্বাইতে ১১৪.৫০ টাকা এবং চেন্নাইতে ১৩৯ টাকা।
বিমান সংস্থাগুলোর সুবিধা: একটি বিমান সংস্থার মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই খরচ হয় জ্বালানিতে। সংকটময় সময়ে এই খরচ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সরকারি এই স্থিতিশীলকরণ প্রকল্প সংস্থাগুলোর খরচকে অনেক বেশি অনুমানযোগ্য (Predictable) করে তুলবে। এতে নগদ প্রবাহের (Cash flow) ওপর চাপ কমবে এবং ভবিষ্যতে যে সব রুটে ফ্লাইট কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে পরিষেবা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সাধারণ যাত্রীদের ওপর প্রভাব: সাধারণ যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি হলো, উৎসবের মরশুম বা সংকটের দিনে ভাড়ার ওপর যে ‘শক’ লাগে, তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে মনে রাখা জরুরি, সরকার বিমান সংস্থাগুলোকে ভাড়া কমানোর কোনো বাধ্যবাধকতা দেয়নি। বিমান সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব কৌশল অনুযায়ী ভাড়ার কাঠামো ঠিক করবে। অর্থাৎ, চাহিদা ও প্রতিযোগিতার ওপর ভিত্তি করেই টিকেটের দাম নির্ধারিত হবে।
তেল সংস্থাগুলোর ভূমিকা: এই প্রকল্পটি সাময়িক। সরকার রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থাগুলোকে সুদবিহীন অগ্রিম প্রদান করবে, যা জ্বালানি বিক্রির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সাহায্য করবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্বাভাবিক হলে এই ভর্তুকি ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হবে।
এক কথায়, সরকারের এই স্থিতিশীলকরণ পরিকল্পনা বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে ভারতীয় বিমান চলাচল শিল্পকে একটি শক্ত ভিত্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা, যা দীর্ঘমেয়াদে বিমান পরিষেবাকে আরও স্থিতিশীল করে তুলবে।