ইরান-যুদ্ধের আঁচ আকাশে! অর্ধেক কমল বিমান সংস্থাগুলোর মুনাফা, বাড়বে টিকিটের দাম?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তাপ এখন বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল শিল্পের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম এবং আকাশসীমা সংকটের জেরে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (IATA) ২০২৬ সালের জন্য তাদের মুনাফার পূর্বাভাস প্রায় অর্ধেক কমিয়ে এনেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে বিমান ভাড়া আরও চড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মুনাফায় বড় ধস: IATA-র বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর সম্মিলিত নীট মুনাফা হতে পারে মাত্র ২৩ বিলিয়ন ডলার। অথচ আগের পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি ছিল ৪১ বিলিয়ন ডলার। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মুনাফায় এই বিশাল পতন গোটা শিল্পে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

কেন এই বিপর্যয়? IATA-র মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ এই সংকটের দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:

  • জ্বালানির চড়া দাম: যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এক বছর আগে যেখানে জ্বালানি খরচ ছিল ২৫২ বিলিয়ন ডলার, তা বেড়ে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই চলে যাচ্ছে জ্বালানি কিনতে।

  • দীর্ঘ রুট ও আকাশসীমা সংকট: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে অনেক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে বিমান সংস্থাগুলোকে বাধ্য হয়ে লম্বা রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা বিমানের জ্বালানি খরচ এবং পরিচালন ব্যয় দুই-ই বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

যাত্রীদের ওপর প্রভাব: বিমান সংস্থাগুলোর খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ যাত্রীদের জন্য সুখবর নেই। আইএটিএ-র স্পষ্ট ইঙ্গিত, অদূর ভবিষ্যতে বিমান ভাড়া কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। উল্টো, টিকিটের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও অনেক সংস্থা লোকসানি রুটে ফ্লাইট কমিয়ে দিতে পারে।

দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ: একদিকে যুদ্ধের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে বিমান নির্মাতা সংস্থা বোয়িং এবং এয়ারবাসের সরবরাহে বিলম্ব—সব মিলিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে বিমান শিল্প। পুরোনো বিমান ব্যবহার করতে গিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বাড়ছে। যদিও বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের চাহিদা এখনো প্রবল এবং মোট রাজস্ব বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু বাড়তি খরচের চাপে অধিকাংশ বিমান সংস্থার মুনাফার গ্রাফ নিম্নমুখী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ছোট বিমান সংস্থাগুলোর অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে, অথবা বড় কোনো সংস্থার হাতে তাদের একীভূত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।